বিক্ষোভকারীদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চাইলো দ. কোরিয়া

বিদেশ ডেস্ক
০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৫১আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৫৭

৩৮ বছর আগের এক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ওপর সংঘটিত যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চাইলো দ. কোরিয়া। ক’দিন আগে নাগরিকদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করে অস্ট্রেলিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে গুয়াংজু শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মঙ্গলবার ক্ষমা প্রার্থনা করেন দ. কোরীয় প্রধানমন্ত্রী। এবার যৌন নিপীড়নের ওইসব ঘটনাকে ‘অবর্ণনীয় কষ্টের’ অভিজ্ঞতা আখ্যা দিয়ে ক্ষমা চাইলের সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তবে একে যথেষ্ট বলে মানতে নারাজ ধর্ষণের শিকার নারীরা। দায়ী সেনা সদস্যদের যথাযথ শাস্তির দাবি তুলেছেন তারা। আনত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন দ. কোরীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী
১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় জেনারেল চুন ডু হুয়ানের সামরিক অভ্যুত্থানের পরের বছর সামরিক শাসন বিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর গুয়াংজু। ওই বিক্ষোভ দমনে পাঠানো হয় সেনাবাহিনী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেনা অভিযানের পর কমপক্ষে দুইশো মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সে দেশের উদারপন্থী সরকারের সাম্প্রতিক এক তদন্তে গুয়াংজুর বিক্ষোভ দমনের সময় ১৭টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা চিহ্নিত হয়। বুধবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিয়ং কিয়ং ডুয়ো জানান, তদন্তে দেখা গেছে সেনা সদস্যরা ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবে নত হয়ে অবর্ণনীয়, গভীর ক্ষতচিহ্ন ও কষ্ট বয়ে বেড়ানো নিরীহদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

ওই সময়ে যৌন নির্যাতনের সন্দেহ করা হলেও ইস্যুটি এতদিন আড়ালে ছিল। ২০১৭ সালে উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন ক্ষমতাসীন হয়েই গুয়াংজুর নৃশংসতা তদন্ত পুনরায় শুরুর কথা বলেন। নিপীড়নের শিকারদের মধ্যে গর্ভবর্তী নারী ও মেয়ে শিশুরাও ছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইয়নও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘অযথা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নারীদের জীবন পদদলিত করা হয়েছে... আমি অসম্ভব কষ্ট পাচ্ছি’।

গত মে মাসে কিম জাং সুক নামের এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আনার পরই যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ধর্ষণের শিকার কিম জাং সুক জানিয়েছেন, তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনাতে সন্তুষ্ট নন। সুক বলেছেন, ‘দায়ী সেনাসদস্যদের যথাযথ শাস্তি না দিয়ে এমন করে লাখ লাখ বার ক্ষমা চাওয়া হলেও তা অর্থহীন।

১৯৮০ সালের মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা সামরিক আইন জারি করেন। এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয় গনতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ। বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর গুয়াংজু। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর বল প্রয়োগ শুরু করলে দিন দিন বাড়তে থাকে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা। লাখ লাখ সাধারণ মানুষ যোগ দিতে থাকে ওই বিক্ষোভে। গণজোয়ার ঠেকাতে মোতায়েন করা হয় আধাসামরিক বাহিনী।

/জেজে/বিএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম