ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা পরিস্থিতিতে কঙ্গো, প্রাণহানি ২০০ ছাড়িয়েছে

বিদেশ ডেস্ক
১১ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৩১আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৩৭
image

আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ২০০-রও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, কঙ্গোর ইতিহাসে এটি ইবোলাজনিত সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। গৃহযুদ্ধকবলিত কঙ্গোর ইবোলা আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলা এবং সম্প্রদায়গুলোর পাল্টা প্রতিরোধমূলক পরিস্থিতিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে তারা।  

ইবোলা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে
মধ্য আফ্রিকার উত্তরাংশে কঙ্গোর উপত্যকায় প্রবাহিত ইবোলা নদী থেকে ইবোলাভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। সর্বপ্রথম ১৯৭৬ সালে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়। ২০১৪-১৫ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তখন বেশি আক্রান্ত হয়েছিল গিনি, সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়া। ২০১৪ সালে কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণে ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এ বছরের জুলাই মাসে কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কঙ্গোর স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তখন থেকে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক ইবোলা আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাণহানি হয়েছে ২০১ জনের।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলি ইলুঙ্গার অভিযোগ, সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কারণে তাদের ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তাকারী দলকে অনবরত হয়রানি করে যাচ্ছে বিদ্রোহীরা। গত সেপ্টেম্বরে বেনি শহরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানকার ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসাকর্মীদের কাজে ব্যাঘাত তৈরি না করার জন্য বিদ্রোহীদের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইলুঙ্গা বলেন, ‘আমরা এখন যে অবস্থার মধ্যে আছি, বিশ্বের আর কোনও প্রাদুর্ভাব এতোটা জটিল আকার ধারণ করেনি।’ তিনি জানান, সপ্তাহে গড়ে তিন থেকে চারবার চিকিৎসা সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। পূর্ববর্তী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘটনাগুলোর তুলনায় এবারের সহিংসতার মাত্রা নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করেন ইলুঙ্গা।

১৯৭৬ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার এর এই নিয়ে দশমবারের মতো কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটলো। বানর এবং বাদুড়ের মতো বন্য প্রাণী থেকে প্রথম এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়। দেহ থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন ধরণের রসের (রক্ত, লালা) মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। ইবোলার উল্লেখযোগ্য কোনও চিকিৎসা নেই। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, ডায়রিয়া, বমি, পেশীতে ব্যথা, অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঘটনায় এই ভাইরাস প্রাণঘাতী হতে পারে।

 

/এফইউ/
সম্পর্কিত
হাজার বছরের ‘পবিত্র’ গাছ মৃত্যুযাত্রায়, মর্মাহত পুরো গ্রাম
তলিয়ে যেতে পারে খুলনা ও কলকাতাসহ বিশ্বের ১৫ শহর
বিশ্বের সবচেয়ে ‘অপছন্দনীয়’ দেশ কোনগুলো
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম