ভারত শাসিত কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর অভিযানে শুক্রবার ছয়জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা শেখিপোরা গ্রামে এক অভিযানে নিহত ছয়জনের মধ্যে লস্কর ই তাইয়্যেবার এক সদস্যও রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, নিহত ওই ব্যক্তি গত জুনে কাশ্মিরের শীর্ষ সংবাদপত্র সম্পাদক সায়িদ সুজাত বুখারিকে নিজ কার্যালয়ে হত্যাকারী দলের সদস্য ছিলেন।
কাশ্মিরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামিকরণ হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতা থেকে আলাদাভাবে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।
ভারতের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজেশ কালিয়া বলেছেন, রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণের শেখিপোরা গ্রামে একদল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপস্থিতির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সেখানে অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর ছয় যোদ্ধার মৃতদেহ ও তাদের সঙ্গে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের একজন লস্কর ই তাইয়্যেবার সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত জুনে নিজ পত্রিকা কার্যালয়ের বাইরে দেহরক্ষীসহ খুন হন কাশ্মিরের শীর্ষ সংবাদপত্র ‘রাইজিং কাশ্মির’ সম্পাদক সুজাত বুখারি। ২৮ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে জম্মু ও কাশ্মির পুলিশের আইজিপি শ্যামপ্রকাশ পানি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য পাকিস্তান ও লস্কর ই তাইয়্যেবাকে দায়ী করেন। পাকিস্তানের মাটিতে বসেই বুখারিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার সন্দেহভাজনের নামও প্রকাশ করেন তিনি। তবে শুক্রবার নিহত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
স্বাধীনতাপন্থী আন্দোলনকামীদের সহিংসতাপ্রবণ অঞ্চল দক্ষিণ কাশ্মির। সম্প্রতি স্বাধীনতাকামীরা সেখানে ছয় ব্যক্তিকে অপহরণ করে। এদের মধ্যে চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি দুজনকে ভারতীয় বাহিনীর চর আখ্যা দিয়ে হত্যা করে। তাদের গুলি করার ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরপর ওই অঞ্চলে অভিযান জোরালো করে ভারতের সেনাবাহিনী।








