ইউক্রেনে মার্শাল ল বা সামরিক শাসন জারি করার ঘটনায় মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
মঙ্গলবার ইউক্রেন ইস্যুতে জার্মান চ্যান্সেলন অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জার্মান নেতা ইউক্রেনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য হস্তক্ষেপ করবেন। ওই ফোনকলের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্ক রাখতে ও সামরিক শাসন জারি করার বিষয়ে ইউক্রেনের সিদ্ধান্তে পুতিন মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন’। এছাড়া পুতিন আশা প্রকাশ করেছেন, আবারও কোনও বেপরোয়া কাজ করা থেকে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষকে নিরস্ত রাখতে বার্লিন প্রভাব খাটাতে পারবে।
রবিবার রাশিয়া ইউক্রেনের বারডিযানস্ক এবং নিকোপল যুদ্ধজাহাজ এবং দি ইয়ানা কাপা জাহাজ জব্দ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া জাহাজের পথ আটকাতে চেষ্টা করে, যদিও এরপর নৌযানগুলো কের্চ স্ট্রেইটের উদ্দেশ্যে চলছিল কিন্তু ট্যাংকার দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া রুশ বাহিনীর গুলিতে জাহাজে থাকা ৬ সেনা আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইউক্রেন। আর রাশিয়ার অভিযোগ, নৌযানগুলা অবৈধভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল এবং নিরাপত্তার কারণে ওই পথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এ ঘটনার পর রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপেরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার এই ঘটনার জরুরি বৈঠক ডাকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ওই বৈঠকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতরা একে অপরের সরকারের এই ঘটনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ অভিযুক্ত করেন। তাদের দাবি, অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা হারানোয় তাদের সরকার এই কাজ করেছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ভোলোদিমির ইয়েলচেনকো বলেন, রাশিয়ায় নৌযান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল যে, ইউক্রেনের তিনটি জলযান ওই প্রণালী অতিক্রম করতে চায়। আর রবিবার সকালে হামলার শিকার হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। তিনি বলেন, রুশ কোস্টগার্ডের জাহাজের ধাক্কায় ইউক্রেনের টাগবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দুটি যুদ্ধজাহাজকে অবরোধ করে রাখা হয়েছে। তার দাবি, ‘এই সময়ে রুশ জাহাজগুলো ইউক্রেনের নাবিকদের গুলি চালাতে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করে গেছে’।
রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পোলিয়ানস্কি দাবি করেন, ইউক্রেনিয়ান প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেনকো ও তার পশ্চিমা সমর্থকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত উস্কানির অংশ হিসেবেই ইউক্রেনের যুদ্ধজাহাজগুলো রুশ জলসীমায় প্রবেশ করে। আগামী মার্চ মাসের নির্বাচনে তার অজনপ্রিয়তাকে ঢাকতেই এমন কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের সামরিক শাসনের মূল কারণ নির্বাচন বাতিল করে দেওয়া। পোলিয়ানস্কি বলেন, ইউক্রেনের জাহাজগুলো অবৈধভাবে রুশ সীমান্ত অতিক্রম করেছে। যারা কেরচ প্রণালী পার হওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে অবৈধ নির্দেশ দিয়েছে তারাই এ ঘটনার জন্য দায়ী।








