২০১৯ সালে ফিরতে পারে আড়াই লাখ সিরীয় শরণার্থী: জাতিসংঘ

বিদেশ ডেস্ক
১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:৩৬আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:৪২

ব্যাপক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও ২০১৯ সালে আড়াই লাখ সিরীয় শরণার্থী নিজেদের দেশে ফিরততে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। মঙ্গলবার জেনেভায় ইউএনএইচসিআর’র মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক আমিন আওয়াদ সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৫৬ লাখ সিরীয় শরণার্থী প্রতিবেশি তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান, মিসর এবং ইরাকে রয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ শেষ হয়েছে জানিয়েছে, জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন শরণার্থীদের নিজে দেশে ফেরার বাধা দূর করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এর ওপর নির্ভর করে দেশে ফেরা শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়তে বা কমেত পারে বলেও জানান তিনি। ২০১৯ সালে ফিরতে পারে আড়াই লাখ সিরীয় শরণার্থী: জাতিসংঘ
২০১১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে সিরিয়ার অর্ধেক অধিবাসী পালিয়ে যায়। শরণার্থী হিসেবে তাদের মধ্যে প্রায় ৬৩ লাখ বিদেশে পালিয়ে যায়। নিজ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয় আরও প্রায় ৬০ লাখ। অনেকেই একাধিকবার পালাতে বাধ্য হন। পালিয়ে যাওয়াদের  মধ্যে প্রায় দশ লাখ লেবাননে, তুরস্কে প্রায় ৩৬ লাখ, জর্ডানে প্রায় সাত লাখ শরণার্থী চলে যায় বলে জানায় ইউএনএইচসিআর। এছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর পালিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন শিবিরে প্রায় দশ লাখ সিরীয় শিশুর জন্ম হয়েছে। এসব শিশুদের বিদেশি বার্থ সার্টিফিকেট স্বীকৃতি দিতে সিরিয়ার সরকার সম্মত হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইউএনএইচসিআর’র কর্মকর্তা।

জাতিসংঘ কর্মকর্তা আওয়াদ বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি ২০১৯ সালে প্রায় আড়াই লাখ সিরীয় ফিরে যাবে। আমরা যে শান্তি এবং প্রত্যাবাসনের বাধা দূর করতে কাজ করছি তার ওপরে নির্ভর করে এই সংখ্যা বাড়তে বা কমতে পারে’। জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় যুদ্ধ শেষ হয়েছে। কয়েকটি ছোট ছোট পকেটে যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যে ইদিলিব এবং অপর তিনটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা বর্জনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

ইউএনএইচসিআর’র তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর প্রায় ৩৭ হাজার শরণার্থী সিরিয়ায় ফিরেছে। এসব শরণার্থী মূলত দেরা, দামেস্ক, এবং হোমস শহরে গেছেন বলে জানান আওয়াদ। আওয়াদ বলেন, ফিরে আসার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে শরণার্থী এবং তাদের সম্পত্তি ও বাড়িঘর নথিভুক্ত করা। এছাড়া বাধ্যতামূলক সেনাদলে নিয়োগ সংক্রান্ত ইস্যু এবং সেনাবাহিনীকে আঘাতকারীদের সাধারণ ক্ষমা বিষয়ক ইস্যুও রয়েছে। অন্যসব বাধার মধ্যে রয়েছে মাইন আর অবিস্ফোরিত অস্ত্র। আওয়াদ বলেন, কৃষিক্ষেত এবং বেসামরিক এলাকা নিরাপদ করতে বিশাল মাইন অপারেশন অভিযান চালানোর প্রয়োজন হবে।

সিরীয় শরণার্থীদের স্বাস্থ্য, পানি, পয়নিস্কাশন, খাবার, শিক্ষা এবং মনো-সামাজিক সমর্থন দিতে প্রতিবেশিদের ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দিতে দাতাদের প্রতি মঙ্গলবার আহ্বান জানায় ইউএনএইচসিআর। এই আহ্বান জানিয়েছে আওয়াদ বলেন,  নির্বাসনে টিকে থাকা দীর্ঘায়িত হতে থাকায় তাদের বসবাসের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তারা টাকা ধার করছে আর ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শরণার্থী।

/জেজে/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম