ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে মঙ্গলবারের (১১ ডিসেম্বর) হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনকে গুলি করে হত্যা করেছে ফরাসি পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে স্ট্রাসবুর্গের একটি সড়কে পুলিশ তাকে তাকে গুলি করে। জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবরটি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার স্ট্রাসবুর্গের বিখ্যাত ক্রিসমাস মার্কেটের কাছে রাত আটটার দিকে হামলা চালায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারী। টহলরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হয় তার। এ ঘটনায় প্রাণ হারান তিনজন। আহত হন আরও ১৩ জন। পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর বয়স ২৯ বলে জানানো হয়। স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সন্দেহভাজনের নাম শাকেত। তাকে উগ্রবাদী বিবেচনা করছে পুলিশ। সন্দেহভাজন শাকেতকে ধরতে স্ট্রাসবুর্গে তল্লাশি জোরদার করা হয়। জীবিত কিংবা যেকোনও অবস্থাতেই তাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালায় পুলিশ।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফি কাস্তানের জানান, বৃহস্পতিবার নিউডর্ফ এলাকায় শেকাতের চেহারার বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাওয়া এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন তিন পুলিশ কর্মকর্তা। তারা ওই ব্যক্তিকে থামানোর চেষ্টা করে। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি উল্টো ঘুরে দৌড়াতে থাকে এবং ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশ তাকে পাল্টা গুলি করে এবং সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি নিহত হয়।
অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানির ওপর কর বাড়ানোর প্রতিবাদে গত ১৭ নভেম্বর থেকে ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমান্বয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ধারাবাহিক আন্দোলনে ফ্রান্সের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষুব্ধ মানুষের নজিরবিহীন সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়। গ্রেফতার করা হয় সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীকে। দেশজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন অস্থিরতার মধ্যেই সোমবার (১০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রতিশ্রুতি দেন,আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেবেন। এর একদিন পরই হামলা হয় ক্রিসমাস মার্কেটে।








