রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জারিকৃত সামরিক আইন প্রত্যাহার করেছে ইউক্রেন। ৩০ দিনের জন্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর একাংশে জারিকৃত সামরিক আইনের মেয়াদ শেষ হলে তা তুলে নেয় দেশটির সরকার। ২৬ নভেম্বর ওইসব অঞ্চলে সামরিক আইন জারি করা হয়েছিল।
গত মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের বারডিযানস্ক এবং নিকোপল যুদ্ধজাহাজ এবং দি ইয়ানা কাপা জাহাজ জব্দ করে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া জাহাজের পথ আটকাতে চেষ্টা করে, যদিও এরপর নৌযানগুলো কের্চ স্ট্রেইটের উদ্দেশ্যে চলছিল কিন্তু ট্যাংকার দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া রুশ বাহিনীর গুলিতে জাহাজে থাকা ৬ সেনা আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইউক্রেন। আর রাশিয়ার অভিযোগ, নৌযানগুলা অবৈধভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল এবং নিরাপত্তার কারণে ওই পথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এ ঘটনার পর রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপেরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আর রাশিয়ার এমন আচরণের পর দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নিরঙ্কুশ সমর্থনে ২৬ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য সামরিক শাসনও জারি করা হয় দেশটিতে। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ২৭২ আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে অবস্থান নেন মাত্র ৩০ জন।
রাশিয়া, বেলারুশ ও মলডোভা সীমান্তবর্তী ১০টি অঞ্চলে এই সামরিক শাসন জারি ছিলে। এই সময় ১৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী রুশ পুরুষ ইউক্রেনে নিষিদ্ধ ছিলো। প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো আগেই বলেছিলেন, ৩০ দিনের মেয়াদ শেষে তাদের এই সময়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। রাশিয়া খুব বড় ধরনের হামলা না করলে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনও সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।








