যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট–এর ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। এর আগেরবার ২০১৭ সালের সূচকে বাংলাদেশের বড় অবনতি হয়েছিল। আট ধাপ পিছিয়ে ১৬৫টি দেশ ও ২টি ভূখণ্ডের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয় ৯২তম। এবার চার ধাপ এগিয়ে এবার সূচকের ৮৮তম অবস্থানে এসেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের সূচকে বাংলাদেশ ছিল ৮৪তম অবস্থানে।
পাঁচ মানদণ্ডে একটি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ ভিত্তিক এই সূচক তৈরি করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। এগুলো হলো নির্বাচন ব্যবস্থা ও বহুদলীয় পরিস্থিতি, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার। প্রতি সূচকের পূর্ণমান ধরা হয় ২। সব সূচক মিলিয়ে কোনো দেশের গড় স্কোর ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ রয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়। স্কোর ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে হলে সেটাকে চিহ্নিত করা হয় ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ হিসেবে, আর স্কোর ৪ থেকে ৬ এর মধ্যে হলে ‘মিশ্র শাসন’ ধরে নেওয়া হয়। স্কোর ৪ এর নিচে হলে সে দেশে ‘স্বৈরশাসন’ চলছে বলে ধরা হয়।
চার ধাপ অগ্রগতি সত্ত্বেও সূচকে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান গতবারের মতোই মিশ্র ক্যাটাগরিতে। মূল্যায়নের ১০ পয়েন্টের মধ্যে এবার বাংলাদেশের স্কোর ৫ দশমিক ৫৭। আগের বছর ছিল ৫ দশমিক ৪৩।ক্যাটাগরিতে।
এবার চার ধাপ এগোলেও বাংলাদেশকে আগেরবারের মতো ‘হাইব্রিড শাসনব্যবস্থার’ বিভাগে রাখা হয়েছে। ‘হাইব্রিড’ ক্যাটাগরিতে স্থান পায় সেই দেশগুলো, যেখানে নিয়মিত নির্বাচন হলেও তা অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় না, বিরোধী দল এবং বিরোধী প্রার্থীদের ওপর দমন পীড়ন, দুর্নীতি এবং দুর্বল আইনের শাসনের ভিত্তিতে শাসন পরিচালিত হয়। পাশাপাশি দুর্বল নাগরিক সমাজ, পক্ষপাতমূলক বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত থাকে।
এবারের সূচক অনুযায়ী, গণতন্ত্রের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
ভারত ৭.২৩ স্কোর নিয়ে তালিকার ৪১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৬.১৯ স্কোর নিয়ে ৭১তম অবস্থানে রয়েছে। ভারতের এক ধাপ উন্নতি হলেও শ্রীলঙ্কা পিছিয়েছে নয় ধাপ। এছাড়া ৫.৩০ স্কোর নিয়ে ভুটান ৯৪তম; ৫.১৮ স্কোর নিয়ে নেপাল ৯৭তম; ৪.১৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান ১১২তম; ৩.৮৩ স্কোর নিয়ে মিয়ানমার ১১৮তম এবং ২.৯৭ স্কোর নিয়ে আফগানিস্তান ১৪৩তম অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে অতীতের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের সূচকে গণতান্ত্রিক বৈশ্বিক সূচকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নরওয়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে যথাক্রমে আইসল্যান্ড ও সুইডেন। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্ক। আর সবার নিচে অর্থাৎ ১৬৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।








