থেরেসার মাথায় ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট’র চাপ, বিরোধী শিবিরে বাড়ছে করবিনের সমর্থন

বিদেশ ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৭আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৫
image

সম্ভাব্য ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট’ (নো ডিল ব্রেক্সিট) এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ওপর চাপ জোরালো হচ্ছে। সংশোধিত নতুন পরিকল্পনা (প্ল্যান বি) নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন মে। তবে বিরোধীদের দাবি, সবকিছুর আগে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তাকে। প্রতিশ্রুতি ছাড়া  আলোচনা বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় লেবার নেতা জেরেমি করবিন। স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনার টেবিল থেকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট প্রসঙ্গ না সরলে তিনি বৈঠক করবেন না। করবিনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দলের নেতৃত্বস্থানীয় আইনপ্রণেতারা (ফ্রন্টবেঞ্চার)। অন্য কয়েকটি দলের পক্ষ থেকেও তার সিদ্ধান্ত সমর্থন কের থেরেসা মে-এর সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। ব্রেক্সিট প্রশ্নে নতুন আরেকটি গণভোট আয়োজনেরও দাবি উঠেছে কোনও কোনও দলের পক্ষ থেকে। সরকারবিরোধী দলগুলোই নয়, নতুন ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে গণভোটের দাবি জানিয়েছে থেরেসার দল কনজারভেটিভ পার্টির একাংশও।  


থেরেসার মাথায় ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট’র চাপ, বিরোধী শিবিরে বাড়ছে করবিনের সমর্থন

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে কোনোরকমে প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকে যাওয়ার পর ব্রেক্সিট পরিকল্পনা অনুমোদনের স্বার্থে সম্ভাব্য বিকল্প পথ নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে,বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতাদের দ্বারস্থ হতে শুরু করেছেন। এরইমধ্যে লিবারেল ডেমোক্র্যাট,এসএনপি ও প্লাইড ক্যামরি পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) নিজ দলের চুক্তিহীন ব্রেক্সিটপন্থী টোরি সদস্য ও ডিইউপি’র এমপিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। তবে থেরেসার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবশর্তসাপেক্ষভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, থেরেসা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথ থেকে সরে না আসা পর্যন্ত তিনি আলোচনার টেবিলে যাবেন না। করবিনের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করলেও চুক্তিহীন ব্রেক্সিট প্রশ্নে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন থেরেসা।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে মাত্র ১৯ ভোটে থেরেসা মে টিকে যাওয়ার পর পরই চুক্তিহীন ব্রেক্সিট পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেন করবিন। বলেন, ‘কোনও চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসলে যেসব বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে সেগুলো সরকারকে অবশ্যই দূর করতে হবে।’ আলোচনার টেবিল থেকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিষয়টি সরবে না বলে হাউস অব কমন্সে থেরেসা মে সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পর পরই করবিনের মুখপাত্র জানান, ব্রেক্সিট সংক্রান্ত বৈঠকে বসতে থেরেসার দেওয়া প্রস্তাবে সাড়া দেবেন না লেবার নেতা।

করবিন ডাউনিং স্ট্রিটে আলোচনায় অংশ নিতে যাবেন কিনা সে ব্যাপারে গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে  জানতে চাওয়ার পর তার মুখপাত্র বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝতে পারছি এ বৈঠক হবে না।’

চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথ থেকে সরে আসতে বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) আবারও থেরেসা মে’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন করবিন। হ্যাস্টিংস শহরে এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে করবিন বলেন, পার্লামেন্টে থেরেসা মে-কে শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় পরাজয়। থেরেসার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ‘এখন মৃত’ বলে মন্তব্য করেন করবিন। এ লেবার নেতার দাবি, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটকে অনিবার্য হিসেবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মে মূলত নিজের ব্রেক্সিট পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায় করতে চাইছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন চুক্তিহীন ব্রেক্সিট পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি হিসেবে সরকার ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করছে, যা (চুক্তিহীন ব্রেক্সিট) আদতে কখনও হবেই না।

জেরেমি করবিন ব্যক্তিগতভাবে থেরেসার সঙ্গে আলোচনা বর্জনের ঘোষণা দিলেও এরইমধ্যে লেবার পার্টির শেডো মন্ত্রীরা (পার্লামেন্টের ফ্রন্টবেঞ্চার) জানিয়ে দিয়েছেন তারা করবিনের সাথে আছেন। বিবিসির টুডে প্রোগ্রামকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক শেডো মন্ত্রী বারি গার্ডিনার এ কথা নিশ্চিত করেছেন। গ্রিন পার্টির এমপি ক্যারোলিন লুকাস জানিয়েছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি নন থেরেসা। লুকাস জানান, বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে তিনি থেরেসার সঙ্গে কথা বলেছেন। বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও থেরেসা মে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা নাকচ করতে রাজি হননি। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা ভিনচে ক্যাবল বলেছেন, ‘এ ইস্যুতে বিস্তারিত কথা বলার জন্য থেরেসার আগ্রহ’ দেখে তিনি উৎসাহিত বোধ করেছেন। ভিনচে জানান, আরেকটি গণভোট আয়োজনই তার দলের প্রথম পছন্দ।

স্কটল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিকোলা স্টুরজিওনও জানিয়ে দিয়েছেন তার দল থেরেসার সঙ্গে আলোচনা করবে না। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা বাতিল, ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানো এবং নতুন গণভোট আহ্বান না করা পর্যন্ত তার দল এসএনপি আলোচনা বর্জন করবে। এর আগে বুধবার (১৬ জানুয়ারি) আস্থা ভোটে টিকে যাওয়ার র লিবারেল ডেমোক্র্যাট, এসএনপি ও প্লাইড ক্যামরি পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছেন থেরেসা।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, থেরেসা মে যদি একটি শুল্ক ইউনিয়ন অনুমোদন করেন, একক বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং কর্মী ও ভোক্তা অধিকারের সুরক্ষা বাড়ান, তবে ব্রেক্সিট চুক্তিকে সমর্থন দিতে রাজি আছে লেবার পার্টি। তবে তা করতে গেলে থেরেসাকে নিজ দলের ভেতরেই বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। ব্রেক্সিট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখন পর্যন্ত যে মতভেদ রয়েছে তার ভিত্তিতে বলা যায় অদূর ভবিষ্যতেও সমঝোতার সম্ভাবনা নেই। ২৯ মার্চের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ব্রেক্সিটের জন্য আর মাত্র ১০ সপ্তাহ সময় আছে।

/এফইউ/বিএ/
সম্পর্কিত
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের হামলা
দুনিয়ার আজব ৭টি সাপের মেলা
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম