তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় অগ্রগতি!

বিদেশ ডেস্ক
২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৬আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৯

কাতারের রাজধানী দোহায় আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ষষ্ঠ দিনের মতো দোহায় মিলিত হয় দুই পক্ষ। এতে প্রস্তাবিত একটি শান্তি চুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে বৈঠক নিয়ে এখনও কোনও পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তালেবান আমলের একজন কর্মকর্তা ওয়াহিদ মুজদা আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছেন, বৈঠকে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহারের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে। একইসঙ্গে আফগানিস্তানও বাইরের দুনিয়ার জন্য কোনও হুমকি হবে না।

তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় অগ্রগতি! কাতারের রাজধানী দোহায় আফগান তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় অবস্থিত। এ কার্যালয়টি স্থাপনের পেছনে আমেরিকার ব্যাপক আগ্রহ ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল এটিকে যেন তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এদিকে সম্প্রতি দলের একজন সহপ্রতিষ্ঠাতাকে তালেবানের নতুন নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মোল্লা আবদুল গনি বেরাদার নামের এ তালেবান নেতা ২০১৮ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

আফগানিস্তানে ১৭ বছরের মার্কিন দখলদারিত্ব অবসান করতে চায় তালেবান। যুক্তরাষ্ট্রও দেশটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়।

ধারণা করা হচ্ছে, তালেবানের নতুন নেতা যুদ্ধ থামানোর কৌশল প্রণয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা আরও জোরদার করবেন। দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান বৈঠকেও অংশ নিচ্ছেন তিনি।

কে এই মোল্লা বেরাদর?

মোল্লা আবদুল গনি বেরাদর তালেবান আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং তাদের রহস্যময় সাবেক নেতা মোল্লা ওমরের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মোল্লা ওমরই নাকি তাকে 'বেরাদর' এই ছদ্মনাম দিয়েছিলেন - যার অর্থ বেরাদর বা ভাই। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফগানিস্তানে তালেবানর সামরিক কর্মকাণ্ডের অধিনায়ক। তার বয়স এখন ৫০-এর কোঠায় বলে ধারণা করা হয়।

২০১০ সালে পাকিস্তান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে। এর পর থেকেই তিনি বন্দী ছিলেন এবং মাত্র গত বছরই অক্টোবর মাসে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

তখন শোনা গিয়েছিল যে তার স্বাস্থ্য ভালো নয়, এবং তালেবানের নেতৃত্ব দানকারী কাউন্সিলে যোগ দেবার আগে তাকে বিশ্রাম নিতে হবে। পাকিস্তানে বন্দীদশায় থাকার সময় তাকে প্রায়ই ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হতো বলে তার সাথে দেখা করতে যাওয়া লোকেরা টের পেয়েছেন। তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় অগ্রগতি!

তালেবান প্রায় প্রতিদিনই পশ্চিমা জোট সমর্থিত আফগান সরকার এবং তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। তারা আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক ভূখন্ড নিয়ন্ত্রণ করে এবং বলা হয় যে ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর এখনই তারা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি গত সপ্তাহেই বলেন ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হবার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৫ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে।

এই আলোচনা কি ফলপ্রসূ হবে?

যুক্তরাষ্ট্র এই গ্যারান্টি চাইছে যে আফগানিস্তান যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। একজন উর্ধতন তালেবান নেতা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এ আশ্বাস তালেবান দিয়েছে যে তারা সন্ত্রাসী আক্রমণের জন্য আফগানিস্তানকে ব্যবহারের জন্য জঙ্গীদের যে কোন চেষ্টার বিরোধিতা করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তালেবান নেতা বলেন, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে যোগাযোগে আগ্রহী নয়। তবে আল কায়েদার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি নয় তালেবান।

পশ্চিমা এবং আফগান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, মোল্লা বেরাদরকে প্রধান আলোচক হিসেবে এ আলোচনায় নিয়ে এসে তালেবান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা একে সিরিয়াসভাবে নিচ্ছে - এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে। কারণ মোল্লা বেরাদর তালেবানের একজন শীর্ষ নেতা এবং একজন 'বাস্তববাদী', - তিনি এমন এক ব্যক্তি যার সিদ্ধান্ত সংগঠনের অন্যেরা মেনে নেবে। একজন তালেবান কমান্ডার আবদুল রহমানও নিউইয়র্ক টাইমসের মুজিব মাশালকে এ কথা বলেছেন।

এর আগে এই শান্তি আলোচনায় তালেবান প্রতিনিধি পাঠানো নিয়ে কিছু হাস্যকর ঘটনা ঘটেছিল। ২০১০ সালে আলোচনায় যাকে তালেবানের দুই নম্বর নেতা মোল্লা আখতার মোহাম্মদ মনসুর সাজিয়ে পাঠানো হয়েছিল - তিনি আসলে ছিলেন কোয়েটা শহরের এক দোকানদার।

২০১৫ সালে আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি শহরে তালেবান 'প্রতিনিধি দলের' বৈঠক হয়। বলা হয়েছিল যে, এই দলটি তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু কয়েকদিন পরই খবর বেরোয় যে, মোল্লা ওমর বেশ কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। মোল্লা বেরাদরির আলোচনার টেবিলে আসাকে এসব কারণেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি।

/এমপি/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম