ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতে এখনও মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ভেনেজুয়েলায় স্বাধীনতা অথবা মাদুরো; এ দুটির মধ্যে যে কোনও একটিকে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ দাবি করা ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদোকে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান মাইক পম্পেও। একইসঙ্গে দেশটিতে অবিলম্বে নতুন করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে নির্বাচন দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মাইক পম্পেও বলেন, এখনই প্রতিটি দেশের জন্য একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার সেরা সময়। আর দেরি নয়, আর কোনও খেলা নয়। আপনি হয় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকবেন অন্যথায় নিকোলাস মাদুরো ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে।
মাদুরোকে উৎখাতের প্রস্তাবে আগে থেকেই বিরোধিতা করে আসছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া।
সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (২৩ জানুয়ারি) নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদোকে আমি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।’ কিন্তু এখনও দেশটির সেনাবাহিনী মাদুরোর পক্ষেই আনুগত্য ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশটির সেনাবাহিনী যেদিকে দাঁড়াবে, ক্ষমতার পাল্লা সেদিকেই হেলে পড়বে।
শুক্রবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তাদের বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। কড়া পুলিশ প্রহরার মধ্যে তাদের গাড়িবহর পৌঁছায় কারাকাসে। এর পরপরই রাশিয়ার সমর্থনপুষ্ট ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা বেগবান করে যুক্তরাষ্ট্র।
মাদুরোকে উৎখাতের মার্কিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ক্যু সংগঠনের মাধ্যমে দেশটিতে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আরেকটি বিষয় করে তুলতে চাইছে। রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) বলেছেন, মস্কো প্রস্তাব করবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার।
নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার ডাক দেওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌতুক করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাদুরো। তার ভাষায়, ‘আমি নিজেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে চেয়েছিলাম নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বানের বিষয়ে। কিন্তু তার আগেই মাইক পম্পেও তা করে ফেলেছেন। ধন্যবাদ মাইক...আমরা সেখানে সংবিধানের ধারা ও অভ্যুত্থানের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরতে পারব।’
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মিশেল ব্যাশেলে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অনেক বেশি শক্তি প্রয়োগ করছে মাদুরো সরকার। তিনি আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি খুব দ্রুত হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
অনেক বড় তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে ভেনেজুয়েলাকে। সম্প্রতি দেশটির সাধারণ মানুষকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলম্বিয়া থেকে খাদ্যসহ অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। আর্থিক দুর্দশা থেকে উক্তি পেতে তাদের অনেকেই আশেপাশের দেশে অভিবাসী হওয়ার চেষ্টা করছেন।
এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচন। তাতে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন নিকোলাস মাদুরো। দেশটির বিরোধী দলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্বাচনের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। বিরোধীদের এমন দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। অর্থনৈতিক সংকটে জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। সূত্র: আল জাজিরা।








