এক সপ্তাহের মধ্যেই ভেনেজুয়েলানদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তার পরিকল্পনা তৈরি হয়ে যাবে। এজন্য স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। প্রেসিডেন্ট দাবি করার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় ৪০টি দেশ তাকে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে ২০টি দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের। সে সময়ই গুইদো ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলাবাসীর সহায়তায় তিনি আন্তর্জাতিক ‘ত্রাণ সহযোগীদের’ নেটওয়ার্ক বানাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি তার অনুরোধেই ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো কলম্বিয়ার কুকুতা সীমান্তে পৌঁছলেও তা ভেনেজুয়েলায় ঢুকতে দিচ্ছে না সে দেশের সেনাবাহিনী। কেননা প্রেসিডেন্ট মাদুরো মনে করছেন, ত্রাণের নামে সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের বাসনা বাস্তবায়ন করতে চায় পশ্চিমারা। ফ্রেডি বার্নাল নামে সরকারি এক কর্মকর্তা ওই ত্রাণকে ‘ট্রোজান হর্স’ বলে মন্তব্য করে বলেন, এটি মানবিক সহায়তার নাম করে প্রবেশ করে সামরিক আগ্রাসন চালাবে। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আমাদের সীমান্ত শান্তিপূর্ণভাবে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার আমাদের আছে।
তার অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল মজুদ দখল করতে চায়।
ত্রাণ কেন প্রয়োজন?
অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে ভেনেজুয়েলার লাখ লাখ মানুষ খাবার ও ওষুধের সংকটে রয়েছেন। চলতি রাজনৈতিক সংকট শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞাও জারিও করেছে। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণ সহায়তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। গত সপ্তাহেই সাইমন বলিভার্ আন্তর্জাতিক সেতুতে ত্রাণবহর আটকে দিয়েছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে সেনা অবস্থান করছিলো।
গুইদো বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক জোট তৈরি করতে চান যেন তিনটি পয়েন্ট দিয়ে ত্রাণ প্রবেশ করতে পারে এবং সেনাবাহিনীকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ত্রাণ প্রবেশের অনুমোদনে বাধ্য করা হয়।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউএসএআইডিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো। বরাবরই এমন অভিযোগ করেছে রাশিয়া। ২০১২ সালে বলিভিয়ায় সংস্থাটি ত্রাণ পৌঁছায়। এক বছর পরই দেশটির সরকার সেটা বন্ধ করে দেয়। তাদের অভিযোগ এর মাধ্যমে বলিভিয়ান জনগণ ও সরকারের বিরুদ্ধে ষরযন্ত্র করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেই রাশিয়া এবং বলিভিয়াই এখন মাদুরোর মিত্র।
কি করবেন গুইদো?
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপেকে দেওয়া সাক্ষাতকারে গুইদো সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই ত্রাণ না পেলে অনেকের মৃত্যু হতে পারে। তিনি বলেন, বলেন, যদি এই ত্রাণ প্রবেশ করে দেওয়া না হয় তবে ৩ লাখ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। গুইদে বলেন, ‘প্রথমত আমাদের সুসাস্থ্যের জন্য ত্রাণ আসছে। দুইদিন আগেই পানির অভাবে, পুষ্টির অভাবে তিনবছরেরও কমবয়সী আটজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, বন্ধ করে রাখা সেতুটিতে তিনি অনেকগুলো গ্রুপকে জড়ো করছেন। আশা করছেন সামনের সপ্তাহেই ত্রাণ প্রবেশ করতে পারবে।
গুইদোর বিশ্বাস, মানবতার কথা চিন্তা করে সেনাবাহিনী তাকে সমর্থন দিবে। তিনি বলেন, ত্রাণ গ্রহণ করবে কি না তা নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক দ্বিধায় ভুগছে। প্রয়োজনের চরম এই মুহূর্তে তারা যদি ত্রাণ গ্রহণ করে তবে তা খুবই দুঃখজনক।
ভেনেজুয়েলার আরও কয়েকজন নেতা ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এর আগে মাদুরো ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ‘ভুয়া মানবিক সহায়তা’ নেবেন না তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সমস্যা বড় করে দেখাচ্ছে যেন তারা আগ্রাসন চালাতে পারে।
মার্কিন আগ্রাসন খুবই বিতর্কিত বিষয় বলে মন্তব্য করে গুইদো বলেন মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি প্রয়োজনে সবকিছু করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বকে ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে প্রস্তুত।








