ভারতীয় বিমান হামলায় ‘বহু জঙ্গি’ নিহত হওয়ার দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার হামলা-পরবর্তী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ভারত দাবি করে, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে পরিচালিত বিমান অভিযানে বহু জঙ্গি, সিনিয়র কমান্ডার ও প্রশিক্ষক নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের এক বিবৃতিতে ভারতের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতেই মোদি সরকার এমন মিথ্যে বলছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পুলওয়ামাতে আরডিএক্স বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’র গাড়ি বহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। প্রাণ হারায় বাহিনীর অন্তত ৪৪ সদস্য। পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ওই হামলা সংঘটিত হয়েছে দাবি করে তখন থেকেই সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলো ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টা নাগাদ ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাহায্যে ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর ওই হামলা সম্পর্কে ভারতীয় বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে দাবি করেন, ‘‘বালাকোটে জইশের সবথেকে বড় জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারত। জইশ-এ-মোহাম্মদের বহু জঙ্গি, সিনিয়র কমান্ডার, প্রশিক্ষক নিহত হয়েছে।’’ হামলায় নিহতদের মধ্যে মাসুদ আজহারের শ্যালক মৌলানা ইউসুফ আজহারও ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। বিপরীতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘আরও একবার ভারত সরকার স্বার্থপরতা ও কল্পনাপ্রসূত দাবি করেছে। এটা সামনের নিবার্চনে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় তাদের অভ্যন্তরীণ কৌশল। আর এতে করে পুরো অঞ্চলেরই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পুরো বিশ্বের জন্য এই স্থান উন্মুক্ত রয়েছ। তারা দেখতে পারেন।’
মঙ্গলবার এনএসসির বৈঠকে অংশ নেন, পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল জুবাইর মাহমুদ হায়াত, সেনাপ্রথান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল জাফর মাহমুদ আব্বাসি, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা।








