নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মিরের পাকিস্তান অংশে ভারতীয় বাহিনীর হামলার খবরে ভারতে বইছে উৎসবের আমেজ। তবে প্রায় পুরো দেশ যখন উৎসবমুখর তখন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে সীমান্ত এলাকায়। সেখানে পাকিস্তানের পাল্টা হামলার ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। হামলা থেকে বাঁচতে বাংকার খুঁড়ছেন তারা।
বাংকার তৈরির পর সেখান থেকে পানি নিষ্কাশন করছেন জম্মু-কাশ্মীরের কিছু গ্রামবাসী। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন ছবিই বলে দেয় কতটা আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তের মানুষ।
সীমান্তে আতঙ্ক থাকলেও পাকিস্তানে হামলার খবরে রীতিমতো উদযাপনে মেতেছে ভারতের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা। কোথাও লোকজন রাস্তায় নেমে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কোথাও আনন্দ মিছিল আবার কোথাও মিষ্টি বিতরণ। সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিভিন্ন স্থানে বাজি পুড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার আভাস পরিলক্ষিত হচ্ছিল। কিন্তু আগামী মে মাসে জাতীয় নির্বাচনের আগে এ হামলা মোদি’কে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এরইমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, পুলওয়ামার শহীদদের রক্ত নিয়ে ভোটের রাজনীতি করছেন মোদি। সব জেনেও জওয়ানদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মমতা বলেন, পুলওয়ামায় যে জঙ্গি হামলা হবে, তা মোদি জানতেন। গোয়েন্দা সূত্রে সতর্কবার্তা ছিল। তবু কেন সেদিন জওয়ানদের সেখানে পাঠানো হলো? আর যদি পাঠানোর দরকার থাকে, তবে এয়ারলিফ্ট না করে কেন সড়কপথে পাঠানো হল তাদের? সব জেনে-বুঝেও মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে সেনা-জওয়ানদের। তাদের রক্ত নিয়ে ভোটের রাজনীতি করা হলো। রাজনীতির জন্য সেনাদের জীবন বাজি রাখতেও পিছপা হচ্ছে না মোদি সরকার।
ভারতীয় রাজনীতি বিশ্লেষক সঞ্জয় কুমারের মতে, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে এ হামলা নির্বাচনে বিজেপি’কে বাড়তি সুবিধা দেবে।
এদিকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সফল বোমা হামলার দাবি নাকচ করে দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বলছে, সীমান্ত পেরোনোর পরপরই পাকিস্তানের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে ভারতের যুদ্ধবিমান। তবে ভারতীয় বাহিনীর সীমান্ত অতিক্রমের পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জনসংযোগ পরিদফতরের প্রধান মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, এবার পাকিস্তানের হামলা চালানোর পালা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আসা এই বক্তব্য পারমাণবিক হামলার ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি।’
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়ি বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বাহিনীটির অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ভেতরে বোমাবর্ষণ করে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আদেশে পারমাণবিক বোমা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্তদাতা সংস্থা ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (এনসিএ)। সংস্থাটির সভা আহ্বানের কথা জানিয়ে আসিফ গফুর বলেন, ‘এবার আমাদের পালা। বিস্মিত হওয়ার জন্য তৈরি থাকুন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এনসিএর সভা ডেকেছেন, এনসিএ কী তা বোঝার চেষ্টা করুন।’ সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।








