ভারত-পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনায় এবার সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট তারকা ওয়াসিম আকরাম। বুধবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান তোমাদের শত্রু নয়’। জঙ্গিবাদকে দুই দেশেরই শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের কথাও বলেন তিনি।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে ভারতীয় বাহিনীর অন্তত ৪৪ সদস্য নিহত হয়। পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ওই হামলা সংঘটিত হয়েছে দাবি করে ভারত। একে কেন্দ্র করে ২৬ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে কাশ্মিরের পাকিস্তান অংশে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। পরদিন পরদিন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে ভারতীয় দুই যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করে পাকিস্তানি বাহিনী। এমন উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের উদ্দেশে সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন ওয়াসিম আকরাম।
টুইটারে দেওয়া পোস্টে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি ভারতকে বলতে চাই, পাকিস্তান তোমাদের শত্রু নয়। তোমাদের শত্রু আমাদেরও শত্রু! আমাদের লড়াই একই; এটা অনুধাবনের আগে আর কত রক্ত ঝরবে? সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করতে হলে দুই ভাইকে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করতে হবে।
পোস্টের শেষে ‘টুগেদার উই উইন’ এবং ‘নো টু ওয়ার’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন ইমরান খানের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সতীর্থ।
এদিকে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালাতে গিয়ে আটক হওয়া ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দিতে ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানি লেখিকা ফাতিমা ভু্ট্টো। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতকে সংলাপের তাগিদ দেওয়ার পর এই আহ্বান জানান ফাতিমা। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা এক কলামে পাকিস্তানের প্রয়াত রাজনীতিক মুর্তজা ভুট্টোর মেয়ে ফাতিমা বলেন, শান্তির নির্দশন হিসেবেই আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দেওয়া উচিত পাকিস্তান সরকারের।
ফাতিমা ভুট্টো বলেন, ‘শান্তি, মানবতা এবং মর্যাদার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির নির্দশন হিসেবে আমি এবং বহু পাকিস্তানি তরুণ আমাদের সরকারকে আটক ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একটি জীবনকাল যুদ্ধে অতিক্রম করেছি। আমরা পাকিস্তানি সেনাদের মৃত্যু দেখতে চাই না। আমরা ভারতীয় সেনাদেরও মৃত্যু দেখতে চাই না। আমরা এতিমদের উপমহাদেশ হতে পারি না। আমার প্রজন্মের পাকিস্তানিরা কথা বলার অধিকারের জন্য লড়াই করেছে। আর আমরা সর্বোচ্চ ন্যায়নিষ্ঠ। কারণ শান্তির পক্ষে সোচ্চার হতে ভীত হবো না।’
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুর্তজা ভুট্টো ছিলেন দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভু্ট্টোর সন্তান। তার বোন বেনজির ভুট্টোও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বেনজির ক্ষমতায় থাকার সময়ে ১৯৯৬ সালে করাচিতে খুন হন মুর্তজা। বাবার হত্যাকাণ্ডে বেনজির দায়ী বলে মনে করেন মুর্তজা ভুট্টোর মেয়ে ফাতিমা ভুট্টো। বেনজিরের দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিরও কড়া সমালোচক তিনি।








