নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী’পোস্ট ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তবে এ নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না তিনি। বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে ফেসবুকের ‘আরও অনেক কিছু করার আছে’। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি'র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে তার তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। ব্রেন্টন তার হামলাটি ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করে। স্বয়ংক্রিয় বন্দুক হাতে হামলাকারীর এগিয়ে যাওয়া,মসজিদের প্রবেশকক্ষ থেকে বিভিন্ন কক্ষে নির্বিচারি গুলি বর্ষণ আর রক্তাক্ত নৃশংস পরিস্থিতির ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। ব্রেন্টনের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী প্রবণতাও পাওয়া গেছে।
ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপের মুখে পড়ে ফেসবুক। গত ২৭ মার্চ নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী’ পোস্টনিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়কোম্পানিটি। এক ব্লগ পোস্টে ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ বা শ্বেতাঙ্গ বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রশংসা,সমর্থন এবং এর প্রতিনিধিত্ব করা ফেসবুকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আর ফেসবুক ও ইনস্টগ্রামে এ ধরনের কোনও কন্টেন্ট ছড়ানোর সুযোগ থাকবে না। তবে ওই ঘোষণা দেওয়ার সময় ক্রাইস্টচার্চ হামলার কথা উল্লেখ করেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন ফেসবুকের ওই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। ফেসবুক ওই পদক্ষেপকে ক্রাইস্টচার্চ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলেও আরডার্ন স্পষ্ট করে বলেছেন সমালোচনার মুখেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদিও এ ধরনের বিষয়গুলো সবসময় ফেসবুক কমিউনিটির বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সংক্রান্ত নির্দেশিকায় থাকা উচিত। তবে ক্রাইস্টচার্চের হামলার প্রেক্ষাপটে সে পদক্ষেপ যে নেওয়া হয়েছে সেটা ইতিবাচক।’ তিনি মনে করেন, ‘আরও অনেক কিছু করার আছে।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় চরমপন্থী উপকরণ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন জাসিন্ডা আরডার্ন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড ও জার্মানিসহ বেশ কিছু দেশ এ ধরনের বিষয় মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে।
‘স্থানীয়ভাবে আমরা ভালো নীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তবে এ প্ল্যাটফর্মগুলো আন্তর্জাতিক। আমি মনে করি এর সমাধানও আন্তর্জাতিকভাবেই করতে হবে।’ বলেন আরডার্ন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে সহযোগী মাধ্যম হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। অতীতের যে কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীর থেকে ভয়াবহ আকারে হাজির হওয়া মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস ‘আমাক’ নামের ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করেই ইউরোপ পর্যন্ত তাদের ‘জিহাদি উন্মাদনা’ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। ২০১৩ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে ওয়েস্টগেট শপিং মলে হামলার কথা সরাসরি টুইটারে জানিয়েছিল আল শাবাব জঙ্গিরা। একটু পর পর হামলার বর্ণনা দিয়ে নতুন নতুন পোস্ট দিচ্ছিলো তারা। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্যারিসের পূর্বাঞ্চলীয় কোশের বাজারে চারজনকে গুলি করে হত্যা করে এক সন্ত্রাসী। মার্কিন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা তখন জানিয়েছিলেন,একটি গো প্রো ক্যামেরা দিয়ে ওই হামলার দৃশ্য রেকর্ড করা হয়েছিল। হামলাকারী ভিডিওটি ইমেইল করতে চেয়েছিল, তবে তার আগেই পুলিশের হাতে মৃত্যু হয় তার।








