রাখাইনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবিকৃত সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকশিমনারের দফতরের মুখপাত্র রাবিনা শামদাসানি বলেন, আমাদের কাছে খবর আসছে যে যেই সংখ্যা দাবি করা হয়েছে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। সেটা ৩০ জনও হতে পারে।
গত বুধবার মিয়ানমারের রাখাইনে একটি বাঁশঝাড়ে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে চালানো হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রথমে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে ৭ জন নিহতের কথা স্বীকার করেছিলো সেনাবাহিনী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের সময় বুথিডাউং এলাকার প্রায় সব গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার যে গ্রামটি হামলার শিকার হয়েছে তা ওই সময় বাদ পড়েছিল।
জাতিসংঘ জানায়, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। কর্মকর্তারা বলছেন, এ আক্রমণে প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছেন, তবে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এর আগে পাওয়া খবরে ওই ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে বলে বলা হয়েছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, এ আক্রমণে প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছেন, তবে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দাবি করছে, হেলিকপ্টার আক্রমণে নিহতরা ওই অঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সহায়তা দিচ্ছিল। কিন্তু জাতিসংঘের মুখপাত্র এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শামদাসি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এই হামলার দায় আরাকান আর্মির সমর্থকদের ওপর চাপাচ্ছে। তবে জাতিসংঘ তা মনে করে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকাকে তিনি বলেন, ‘আসল বিষয় হচ্ছে বেসামরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তারা মারা যাচ্ছেন। এই বিষয়েই আমাদের আন্তর্জাতিক নজর দেওয়া উচিত।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে রাখাইনের ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এলে তা সারা বিশ্বের নজরে আসে। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার অভিযোগে এই অভিযান জোরদার করে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযান গণহত্যার অভিপ্সায় পরিচালিত বলে অভিযোগ করেছে। সম্প্রতি রাখাইনে আরাকান আর্মি নামের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে সেনাবাহিনী। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা স্থানীয় বৌদ্ধ জাতিগোষ্ঠী থেকে আসা।








