২১ এপ্রিলের সিরিজ বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের রক্তদানে অভাবনীয় সাড়া পড়েছে লঙ্কান নাগরিকদের মধ্যে। আহতদের চিকিৎসায় রক্তদানে স্বতস্ফূর্তভাবে ব্লাড সেন্টারে ছুটে আসছেন মানুষ। আগ্রহীদের রীতিমতো লাইন পড়েছে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে। লোকজনের এতোটা সাড়া আশা করেনি খোদ শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল ব্লাড সেন্টার। এখন প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মানুষ যেভাবে ছুটে এসেছে তাতে এ মুহূর্তে আর রক্ত সংগ্রহের জন্য বাড়তি কোনও উদ্যোগের প্রয়োজন নেই। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে লঙ্কান সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস।
রক্ত সংগ্রহের জন্য পূর্ব নির্ধারিত মোবাইল ক্যাম্পেইনও বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ন্যাশনাল হসপিটাল ব্লাড ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার ড. সেনাল রুপাসিংহে বলেন, রক্ত দেওয়ার জন্য প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে ভিড় করেছেন। তাদের মধ্য থেকে তিন হাজার ৭০০ জনের কাছ থেকে রক্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদের ব্লাড গ্রুপ, নাম ও কন্টাক্ট নাম্বার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ড. সেনাল রুপাসিংহে জানান, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় ইতোমধ্যে তারা রক্ত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু কর্মী স্বল্পতা, দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ, পর্যাপ্ত স্থান সংকটের মতো নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আগ্রহীদের সবার কাছ থেকে রক্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
২১ এপ্রিল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে নিহত হন ২৫৩ জন। ভয়াবহ এই সিরিজ বোমা হামলার পর সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি জোরালো করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার তাদের অভিযানে কলম্বো থেকে ২০০ মাইল দূরত্বে একটি ‘বোমা তৈরির কারখানার’ সন্ধান মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িটি সুইসাইড ভেস্ট তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এটি উপকূলীয় সামানথুরাই এলাকায় অবস্থিত। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
ইতোমধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেফতার ও তল্লাশি অভিযান এবং ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনারা দায়িত্ব পালন করবে। সূত্র: দ্য সানডে টাইমস।








