রাখাইন রাজ্যের একটি গ্রামের স্কুলে আটক রাখা দুই শতাধিক বন্দির মধ্যে অন্তত ছয় বন্দিকে গুলি করে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিরস্ত্র এসব বন্দিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সেনবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার সকালে তারা সেনাসদস্যদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের গুলি করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নৃতাত্ত্বিক রাখাইন গোষ্ঠীর অধিকার আদায়কারী বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এসব বন্দিকে আটক করা হয়েছিল।
জাতিগত সংঘাত ও দারিদ্র্য-জর্জরিত মিয়ানমারের রাখাইনে কেবল রোহিঙ্গারাই একমাত্র নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠী নয়। রাখাইন বৌদ্ধরাসহ (আরাকান জাতিভূক্ত) সেখানকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী সেনা-প্রাধান্যশীল কেন্দ্রীয় সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়। কেবল রোহিঙ্গা ছাড়া বাদবাকি সব জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির প্রশ্নকে সামনে রেখেই নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে আরাকান আর্মি।
২০১৭ সালে সেনানিপীড়নের মুখে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর চলতি বছরের শুরুতে আরাকান আর্মি বিরোধী নতুন অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিবিসির খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের কারণে প্রায় ৩০ হাজার বেসামরিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। উত্তর রাখাইনে সাংবাদিক ও সাহায্য সংস্থাগুলোর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। সেকারণে বৃহস্পতিবার সকালে রথেডং এলাকার কাইয়ুক তান গ্রামের ওই স্কুলে আসলে কী ঘটেছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তদন্তের কথা বলে ওই স্কুলে ২৭৫ জনকে অস্থায়ীভাবে আটক রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দিরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা করলে সেনা সদস্যদের গুলি ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। মিন তুন দাবি করেন, প্রথমে সতর্ক করতে ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হলেও তাদের নিবৃত্ত করা যায়নি। পরে গুলি ছোঁড়া হলে ছয় জন নিহত ও অপর আটজন আহত হয়। এছাড়া ঘটনার সময় চারজন পালিয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
গত কয়েক বছর ধরেই অশান্ত রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর রাখাইন রাজ্য। জাতিগত নিধনযজ্ঞের তীব্রতায় ২০১৬ সাল থেকে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য উঠে এসেছে। তবে দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।








