নিউ জিল্যান্ডে বিপন্নপ্রায় কাকাপো টিয়া পাখির একটি ছানার মস্তিষ্কে বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচার করেছেন দেশটির পশু চিকিৎসকরা। বিপন্ন প্রজাতিটি রক্ষায় এই ব্রেন সার্জারির উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
বর্তমানে দুনিয়াজুড়ে মাত্র ১৪৭টি প্রাপ্তবয়স্ক কাকাপো টিয়া রয়েছে। নিউ জিল্যান্ডে ইতোমধ্যেই এই প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য যে কোনও রাষ্ট্রের তুলনায় দেশটিতে অনেক বিপন্ন পাখি রয়েছে।
কয়েকশ বছর আগে কাকাপো টিয়া ছিল নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে সাধারণ পাখিগুলির মধ্যে একটি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে শিকার, অন্য কীটপতঙ্গের হাতে প্রাণহানি এবং তাদের বসবাসের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত বনগুলো বেহাত হওয়ার পর বিপন্ন হয়ে পড়েছে এই প্রজাতি। অথচ এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ আকারের টিয়া পাখি। তবে এটি উড়তে পারে না।
এখন নিউ জিল্যান্ডে যে কাকাপো টিয়াটিকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে সেটির বয়স মাত্র ৫৬ দিন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ইস্পি-১বি। পাখিটির জন্ম হয় অস্বাভাবিক খুলি নিয়ে, যা তার জীবনকেই হুমকিতে ফেলে দিয়েছিল। আর তাই বাঁচানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মানুষ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ওপর ব্যবহৃত অস্ত্রোপচার কৌশলগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল। সার্জনদের একটি বিশেষ দলকে একত্রিত করা হয়েছিল।
ওয়াইল্ডবেস হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ব্রেট গারটেল বলেন, এ ধরনের অস্ত্রোপচার দুনিয়ায় এটিই প্রথম। ইতোপূর্বে কখনও পাখিদের ওপর এমনটা করা হয়নি।
অধ্যাপক ব্রেট গারটেল বলেন, তার মাথার খুলিটি পুরোপুরি সংযুক্ত ছিল না। খুলির মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা হাড়গুলোর মধ্যে কিছুটা ফাঁকা জায়গা ছিল। এমন অবস্থা বিপন্ন পাখিটির জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে, তাই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।
এমন পরিস্থিতিতেই এই অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করেন অকল্যান্ড চিড়িয়াখানা, ওয়েলিংটন চিড়িয়াখানা এবং ডুনেডিন বন্যপ্রাণী হাসপাতালের পশুচিকিৎসকরা। আর পাখিটিকে বিনামূল্যে পরিবহন করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা।
ওয়াইল্ডবেস হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ব্রেট গারটেল বলেন, এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সার্জারি। মানুষের মধ্যেই এই অস্ত্রোপচারের সাধারণ জটিলতা রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি ও মেনিনজাইটিসের মতো জটিলতার আশঙ্কা। এই অপরারেশনকে তীব্র বা গুরুতর অপারেশন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।








