বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৫০ বিজেপি কর্মীর পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদেরকে দেওয়া হয়েছে ‘বিশেষ অতিথি'র মর্যাদা। শুধু তাই নয়, তাদের দিল্লিতে থাকাসহ অন্য সব ব্যবস্থারও দায়িত্বও নিয়েছে বিজেপি। সূত্রকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এসব তথ্য জানিয়েছে। ওই ৫০ জন নেতা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করে থাকে বিজেপি। ওই শপথ অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকবেন। সহিংসতায় নিহত ৫০ জনের পরিবারকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোকে মমতার প্রতি বিজেপির রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে এনডিটিভি।
সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জয় পেয়েছে মোদির দল বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার আসন সংখ্যা আরও বাড়িয়েছে দলটি। গতবার এককভাবে ২৮২ আসন পাওয়া এ দল এবার পেয়েছে ৩০৩টি আসন। আর কংগ্রেস পার্টি আগেরবারের চেয়ে ৮টি আসন বেশি পেলেও পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় আসন পূরণ করতে পারেনি। পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার জন্য একটি দলকে মোট আসনের অন্তত ১০ ভাগ আসনে জিততে হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মোদি।
মঙ্গলবার নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে শপথ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় উপস্থিত থাকছেন। এদিনই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পাঁচ ঘন্টার ম্যারাথন বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। মন্ত্রিসভায় কারা কারা থাকতে চলেছেন তার পাশাপাশি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কারা থাকবেন তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে। এরপরই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হওয়া ৫০ জনের পরিবারের সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।
গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বিজেপি দাবি করে বেশ কয়েকজন কর্মীকে খুন করেছে তৃণমূল। একইভাবে গত এক বছরে বিজেপি কর্মীদের খুন করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা তৃণমূলেরও দাবি পশ্চিমবঙ্গে বাইরে থেকে লোক নিয়ে সন্ত্রাস করছে বিজেপি।
লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে বারবার এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছে বিজেপি। পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। ভোটের ফল প্রকাশের পর বারাণসীর সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ আবারও করেন মোদি।
কিন্তু কেন নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের মোদির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে? বিজেপি নেতারা বলছেন দলের কর্মীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতেই এই ব্যবস্থা। তাদের বোঝাতে চাওয়া হচ্ছে তৃণমূল যদি আগামী দিন আবারও পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাস করে তাহলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের পাশেই থাকবে। আর তাই যে অনুষ্ঠানে খোদ তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান হাজির থাকছেন সেখানেই এই কর্মীদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।








