বৃহস্পতিবার (৩০ মে) যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের অনুরোধ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অংশ নেননি উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তার আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, অ্যাসাঞ্জের শারীরিক অবস্থা এতোটাই খারাপ যে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও শুনানিতে অংশ নেওয়ার অবস্থায় নেই। আগামী ১২ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
সুইডেনে দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের আদালত থেকে কয়েক দফা জামিন নেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। পরে তাকে সুইডেনে ফেরত পাঠানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কায় লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে নেন তিনি। গত ১১ এপ্রিল তার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলের পর তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ওই দিনই তাকে ব্রিটিশ আদালতে তোলা হলে জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। গত ১ মে ৫০ সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছে ব্রিটিশ আদালত। আর তার একদিন পরই (২ মে) যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের ব্যাপারে ব্রিটিশ আদালতে তার বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হয়। গ্রেফতারের পর থেকে ‘যুক্তরাজ্যের গুয়ান্তানামো বে’ খ্যাত কুখ্যাত কারাগারে রাখা হয়েছে অ্যাসাঞ্জকে।
বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তা পারেননি অ্যাসাঞ্জ। এদিন ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী গারেথ পায়ার্স বলেন, ‘তিনি (অ্যাসাঞ্জ) অসুস্থ।’ বিচারপতি এমা আরবুথনট যুক্ত করে বলেন ‘তিনি খুব একটা ভালো নেই।’
এর আগে রয়টার্সকে গারেথ জানিয়েছিলেন, অ্যাসাঞ্জ অনেক বেশি অসুস্থ, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেওয়ার অবস্থা তার নেই।
উইকিলিকস জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাকে লন্ডনের বেশমার্শ কারাগারের একটি স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। উইকিলিকস-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাত সপ্তাহ ধরে বেলমার্শ কারাগারে থাকা অ্যাসাঞ্জের স্বাস্থের ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। নাটকীয়ভাবে তার ওজন কমেছে। তারা স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই তা বোঝা যায়।’
বিগত প্রায় এক দশক ধরে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র। তাদের চোখে অ্যাসাঞ্জ এমন একজন হ্যাকার, যিনি তাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছেন। ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করেছিল তার উইকিলিকস। ওই সব নথির মধ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধসম্পর্কিত ৭৬ হাজার এবং ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত আরও ৪০ হাজার নথি ছিল,যা মার্কিন সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা ব্র্যাডলি ম্যানিং সূত্র হিসেবে অ্যাসাঞ্জকে ওইসব দলিল সরবরাহ করেছিলেন। সে সময় দায়ের করা মামলায় অ্যাসাঞ্জকে চিহ্নিত করা হয়েছিল ঘটনার মন্ত্রণাদাতা হিসেবে।








