মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালানোর সময় এক নৌকার কাছ থেকে ৬৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সো অং। এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, মোট ৬৩ জন ‘মুসলিম’কে উদ্ধার করে নিকটস্থ পুলিশ চেকপোস্টে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন রাখাইন রাজ্যে বসবাস করলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে মিয়ানমার। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরালো করলে জনগোষ্ঠীটির সাত লাখেরও বেশি সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এছাড়াও জনগোষ্ঠীটির অনেক সদস্য নিরাপত্তার আশায় পাচারকারীদের সহায়তায় সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করে থাকে।
তবে প্রায়ই রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকা থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার উপকূলে এসে পড়ে। সো অং বলেন, ‘আমরা নৌকাতে চারজন পুরুষকে দেখতে পাই। বাকিরাও কাছাকাছি ছিলো। মোট ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তবে তারা বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা সে বিষয়ে স্পষ্ট করতে পারেননি তিনি।
২০১৫ সাল থেকে এই নৌপথ বন্ধের চেষ্টা করে আসছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তারপরও শত শত অভিবাসন প্রত্যাশী ঝুঁকি নিয়ে এই সাগরপথ পাড়ি দেয়। মিয়ানমারে থাকা রোহিঙ্গারা প্রায়ই পাচারকারীদের প্রতারণা ফাঁদে পা দেয়।
গত মাসেই ৬৫ জন রোহিঙ্গাকে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক থাই ক্যাপ্টেনকে অভিযুক্ত করা হয় এছাড়া শনিবার থাই জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ২৪ জন রোহিঙ্গাকে।
২০১২ সালে রাখাইনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর লাখো রোহিঙ্গাকে সাগরপথে বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে পালাতে দেখা গেছে। অনেকে আবার তখন মানব পাচারকারীদের কবলেও পড়েছে। ২০১৫ সালে সাগরপথে দলবদ্ধভাবে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। সে সময় আন্দামান সাগর হয়ে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল।








