২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিকে বাঁচাতে ফ্রান্সের নেওয়া প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। বুধবার (৯ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি ফরাসি ভূমিকার প্রশংসা করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে এ বছরের মে মাসে তেহরান চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ৭ জুলাই সেই সময়সীমা শেষে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫% শতাংশে উত্তীর্ণ করার ঘোষণা দেয় ইরান। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এই মাত্রা ৩.৬৭% শতাংশে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল তেহরানের।
পরমাণু চুক্তি নিয়ে চলমান সংকট শিথিল করতে আলোচনার জন্য বুধবার (৯ জুলাই) তেহরান সফর করেন ফরাসি প্রেসিডেন্টের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা এমানুয়েল বন। এদিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি ফ্রান্সের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। উত্তেজনা কমাতে ও পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে ফ্রান্সের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান তিনি। বলেন, ‘পারমাণবিক চুক্তি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টার একটি অংশ হলো ফ্রান্স।’
আব্বাস মুসাভি আরও বলেন, তার দেশ পরমাণু সমঝোতার প্রতি অবিচল থাকবে এবং একই সময়ে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে। তিনি বলেন, বাস্তবতার আলোকে যদিও ইরান এই কৌশলগত নীতি গ্রহণ করেছে, তবে তেহরান কূটনীতির পথ বন্ধ করে দেয়নি এবং আলোচনার দরজা সব সময় খোলা রেখেছে।








