সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশুটির কোনও ছবি ছাপা হয়নি। সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার নামও আসেনি। তবে যে নৃশংসতার শিকার হয়েছে শিশুটি তা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী, শিশুটির নাম-পরিচয় প্রকাশের সুযোগ নেই। তবে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা তার নাম দিয়েছে ভিক্টোরিয়া।
গত ১৬ মে সকালে রাজধানী নেপিদোতে যথারীতি নিজের স্কুলে গিয়েছিল নার্সারি পড়ুয়া শিশুটি। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, এদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার আগে কোনও একটা সময়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। এ ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে ২৪ জুলাই বুধবার মামলার একমাত্র সন্দেহভাজনকে আজ আদালতে তোলা হয়। একইদিন শিশুটির পরিবারও আদালতে ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রমাণ সংকট ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে শুরু থেকেই হোঁচট খাচ্ছে ভয়াবহ এ শিশু ধর্ষণের মামলা।
শিশুটির বয়স এখন তিন বছর। ঘটনার দিনই শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ভিক্টোরিয়া। পরে তার বাবা স্কুলের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখালে সে ওই ঘটনার জন্য এক তরুণকে শনাক্ত করে। পরে শিশুটির সঙ্গে কথা বলে পুলিশ।
১৬ মে-র ওই ঘটনায় গত ৩০ মে শিশুটির স্কুলের গাড়িচালক অং কায়ো মায়ো (২৯) ওরফে অং গাইকে আটক করা হলেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে সে ছাড়া পেয়ে যায়। এক পর্যায়ে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সাধারণ মানুষ। তারা বর্বরোচিত এ ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন।
এক পর্যায়ে শিশুটির ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে ক্যাম্পেইন শুরু করেন মিয়ানমারের স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা উইন কো কো। তার এ ক্যাম্পেইনের নাম দেওয়া হয় ‘জাস্টিস ফর ভিক্টোরিয়া’। আলোচিত এ শিশু ধর্ষণ মামলার অসংগতিগুলোকে একে একে মানুষের নজরে আনতে শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে শিশুটির জন্য ন্যায়বিচার দাবি করা ওই কর্মকর্তাকেই গ্রেফতার করে বর্মি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্মি বিচার ব্যবস্থায় অবমাননার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
উইন কো কো-কে গ্রেফতার করা হলেও তার উদ্যোগ পুরোপুরি বিফলে যায়নি। ওই মামলা নিয়ে আওয়াজ তোলেন সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা থেকে শুরু করে সেলিব্রিটিরা পর্যন্ত। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিবাদ রূপ নেয় রাজপথের বিক্ষোভে। রাজপথে চলাচলকারী গাড়িগুলোতে লাগিয়ে দেওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের নানা বার্তা সম্বলিত স্টিকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গণরোষের মুখে গত ৩০ জুন সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, সত্য উদঘাটনের আগ পর্যন্ত এ মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের বক্তব্যে অবশ্য এখনই পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না আন্দোলনকারীরা। বরং পুলিশের প্রতি আস্থাহীনতা তাদের আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এই ক্ষোভ প্রশমিত করতেই গত ৩ জুলাই এই ধর্ষণকাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার করে কর্তৃপক্ষ। এরপরও গত সপ্তাহে বর্বরোচিত এ ঘটনার বিচার দাবিতে এক বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ। সাদা পোশাকের বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। সূত্র: বিবিসি।








