২৯ থেকে ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করবেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো। এসব সফরে তাকে দেশ দুটির মানবাধিকার ইস্যুতে চাপ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত ২৬ জুলাই জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে এই পরামর্শ দেওয়া হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাপানের পরিচালক কানায়ি দোই ওই চিঠিতে লেখেন, বাংলাদেশ সরকারকে তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেফতারের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর চাপ দেওয়া উচিত। এর মাধ্যমে ভিন্নমতালম্বী এবং শান্তিপূর্ণ সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সমালোচক ও ভিন্নমতালম্বীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বাংলাদেশ সরকারকে কোনোর চাপ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ সরকারের উচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত, গুমের ঘটনা তদন্ত এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করা।
আর মিয়ানমারে নৃতাত্ত্বিক রোহিঙ্গা ও ঝুঁকিতে থাকা অন্য সংখ্যালঘুদের কাছে মানবিক সংস্থা, মানবাধিকার গ্রুপ ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের নিশ্চয়তা দিতে দেশটির সরকারকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনোর বলা উচিত বলে মন্তব্য করা হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চিঠিতে। এছাড়া সু চি’র সরকারকে সমালোচকদের বিনা বিচারে আটক বন্ধ ও মিডিয়া বিষয়ক এবং অন্যান্য নিপীড়ক মূলক আইন সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক অধিকারের বাধানিষেধ বিলোপ করা উচিত। এছাড়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য নিরসন এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনগুলোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা করতে মিয়ানমার সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা উচিত।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাপানের পরিচালক কানায়ি দোই চিঠিতে লেখেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে সবার মানবাধিকার রক্ষায় জাপানের উচিত তাদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক অবস্থান প্রয়োগ করা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকো কোনোর এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট করা উচিত হবে না।








