মুনাফাবাজির কারণে আরও নিপীড়ক হয়ে উঠছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী: জাতিসংঘ

বিদেশ ডেস্ক
০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৯:১৭আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩০

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য। এর ফলেই বাহিনীটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক অভিযান চালাতে পারে জবাবদিহীতা ছাড়াই। বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করলেও পেয়ে যায় দায়মুক্তি। সোমবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মুনাফাবাজির কারণে আরও নিপীড়ক হয়ে উঠছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বিদেশি ব্যবসায়ী ও সরকারকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত ১৪০টিরও বেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইন্দোনেশিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মারজুকি দারুসমান।

এক সাক্ষাৎকারে মারজুকি দারুসমান বলেন, মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকেই কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় দায়মুক্তি পেয়ে যায়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর বিশাল বাণিজ্য জনগণের চোখের আড়ালে রয়েছে। দেশটির সরকারি ও বড় বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মিয়ানমারের অর্থনীতিতে সেনাবাহিনী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বড় বেসরকারি কোম্পানির অবদান অনেক বেশি।

জাতিসংঘ মিশন বলছে, যদি মুনাফা অর্জনে সেনাবাহিনীর এমন পন্থা না থাকত তাহলে তাদের বাজেটের জন্য সরকারের ওপর নির্ভর করতে হতো এবং তাদের পর্যালোচনার মুখোমুখি হতে হতো। কেবিজেড গ্রুপ ও ম্যাক্স মিয়ানমার নামে দুটি বেসরকারি কোম্পানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে মিশন। কোম্পানি দুটি বাংলাদেশ সীমান্তে বেস্টনি নির্মাণে বড় অংকের অর্থ দান করেছে। ২০১৭ সালে রাখাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরে আসা ঠেকাতে এই বেস্টনি নির্মাণ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তিন সদস্যের এই প্যানেলের পক্ষ থেকে গত বছর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে দেশটির সেনাপ্রধানের বিচার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘ মিশনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সামরিক মালিকানাধীন হোটেল ও পর্যটন কোম্পানি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বড় কোম্পানি রয়েছে। এগুলো হলো মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড ও মিয়ানমার ইকোনমিক করপোরেশন। এই দুটির অধীনে অন্তত ১২০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং অন্তত ২৭টি কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। 

 

/এএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম