৩৭০ ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষাধিকার বাতিলের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। ভারতের এই সিদ্ধান্তের জবাব দিতে সম্ভাব্য সব পথ অবলম্বনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
ভারতীয় সংবিধানের যে অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, সোমবার সেই ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই ধারার আওতায় জম্মু ও কাশ্মিরকে নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ৩৭০ ধারার সঙ্গে সঙ্গে এর আওতায় থাকা ৩৫/এ ধারাও বাতিল হয়ে গেছে। এই ধারায় কাশ্মিরবাসী বিশেষ সুবিধা ভোগ করতো।
সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মিরের বিরোধপূর্ণ ‘স্ট্যাটাসের’ পরিবর্তন ভারত সরকার একতরফাভাবে করতে পারে না। কারণ, ওই অঞ্চলের ‘মর্যাদা’ কী হবে তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে উল্লেখ করা আছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির ও পাকিস্তানের কাছে (ভারতের) এই সিদ্ধান্ত কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না। আন্তর্জাতিক এই বিরোধে পাকিস্তান একটি অংশ যেহেতু, তাই ভারত সরকার যেসব অবৈধ পদক্ষেপ নেবে তার পাল্টা সব পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান।
কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও সেখানকার বাসিন্দাদের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ করার দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের ‘সবথেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন’ আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মির দুই জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে থাকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হলো।’
বিশ্লেষকরাও মনে করেন, ব্যাপক মাত্রায় সামরিকায়ন, নিরাপত্তা তল্লাশির সূত্রে হওয়া নির্বিচার হয়রানি ও স্বশাসনের অধিকার ক্ষুণ্ন করার মতো বিষয়গুলো স্থানীয়দের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ জাগিয়ে তুলছে। তাদের ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর দিকে। তার মধ্যে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে স্বায়ত্তশাসনের আনুষ্ঠানিক অধিকারও কেড়ে নেওয়া হলো।








