মোদি সরকার কর্তৃক ৩৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় থাকা ৩৫-এ ধারা বাতিলের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় কাশ্মিরের ভূমি কেনার হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে। ওই ধারায় নাগরিকতা, মৌলিক অধিকার ও সম্পত্তির মালিকানা প্রশ্নে কাশ্মিরিদের বিশেষাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল। ওই অস্থায়ী বিধান (‘টেম্পোরারি প্রভিশন’) বাতিলের পর কাশ্মিরে জমি কিনতে সেখানকার দালাল খুঁজতে শুরু করেছেন ভারতীয় নাগরিকেরা। জানতে চাইছেন সম্পত্তি আর ভূমির দরদাম। এ নিয়ে হাস্যরসও চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজএইটটিন জানিয়েছে, এই সুযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবও ছড়ানো হচ্ছে। কাশ্মিরে জমির বুকিং দেওয়ার ভুয়া তথ্য হোয়াটস অ্যাপের মেসেজে ছড়ানো হচ্ছে।
৩৭০ ধারা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ১৭ অক্টোবর। আর ১৯৫৪ সালের রাষ্ট্রপতির নির্দেশের মাধ্যমে এর অধীনে যুক্ত করা হয় ৩৫-এ ধারা। এই ধারানুসারে, জম্মু কাশ্মিরের বাসিন্দা বলতে কী বোঝায়, তাদের বিশেষ অধিকারগুলি কী কী, এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জম্মু কাশ্মির বিধানসভার উপর ন্যস্ত রয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্য রাজ্যের কেউ সেখানে স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারতেন না। কিনতে হলে অন্তত ১০ বছর জম্মু-কাশ্মিরে থাকার বিধান ছিল। তবে এবার যে কোনও রাজ্যের বাসিন্দা সেখানে জমি কিনতে পারবেন।
সোমবার ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র ঘোষণার পর অনেক ভারতীয় নাগরিক কাশ্মিরে জমি ও সম্পত্তির দরদাম জানতে চেয়ে টুইট করছেন। এসব পোস্টের একাংশ ব্যাঙ্গাত্মক হলেও কেউ কেউ সত্যিকার অর্থেই জমির খোঁজখবর জানতে চাইছেন। রাহুল ত্যাগী নামে লিখেছেন, কাশ্মিরে জমি কেনার মতো টাকা থাকায় ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি সবসময়ই ভেবেছি, আমার বাপের টাকা অর্থহীন হয়ে যাবে যদি আমাদের স্বপ্নের গন্তব্যে জমি কিনতে না পারি। কিন্তু এখন আর কোনও দুঃখ নেই। অঙ্কিত সিং লিখেছেন, অবসরকালীন পরিকল্পনা কাশ্মিরে জমি কেনা।
বিনায়ক নামে এই টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, আমরা এখন কাশ্মিরে জমি ও সম্পত্তি কিনতে পারবো। আমি একটি বাড়ি কিনতে পারবো, শিল্প প্রতিষ্ঠা ও একটা অফিস চালু করতে পারবো। সব যুক্তিতেই এতে কাশ্মিরের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। শচিন শর্মা লিখেছেন, দয়া করে কাশ্মিরের শ্রীনগরে ভালো একজন দালালের খবর নিশ্চিত করুন।
অমিত শাহ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত কাশ্মিরিদের বিশেষ সুবিধা অকার্যকর করার মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক চরিত্রে পরিবর্তন আনতে চাইছে বিজেপি। বিশ্লেষকরে মতে, মোদি সরকার আদতে কাশ্মিরে হিন্দু বসতি ও শিল্প গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়কে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে চাইছে।
বিগত সাধারণ নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও আর্টিকেল ৩৫ (এ) বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিজেপির এক নির্বাচনি পোস্টার ছিল ‘আপকা সাহি ভোট কাশ্মিরমে আপকো প্লট দিলা সাকতা হ্যায়’। হিন্দি ভাষার ওই নির্বাচনি স্লোগানের অর্থটা হল, আপনি যদি ঠিকমতো ভোট দিয়ে (বিজেপিকে) জেতান, তাহলে আপনার কাশ্মিরে জমি কেনার স্বপ্নও সফল হবে। সেই ধারা বিলুপ্ত হওয়ার পর এখন ভারতের অন্য অংশের নাগরিকরাও কাশ্মিরে গিয়ে জমি-বাড়ি কিনতে পারবেন। চাইলে টাটা বা বিড়লা শিল্পগোষ্ঠী জমি কিনে সেখানে কারখানাও গড়তে পারবে।








