রাহুল গান্ধীর পদত্যাগের পর কংগ্রেসের নতুন প্রেসিডেন্টের নাম শনিবার ঘোষণা করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। শুক্রবার ইউপিএ জোট নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকের পর এমন আভাস মিলেছে। গত দুই দশকের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো গান্ধী পরিবারের বাইরে কেউ কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে। নিজস্ব সূত্রের বরাতে ভারতের সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি) বৈঠকের পর নতুন প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করতে ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দলটি। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন ৫৯ বছর বয়সী কংগ্রেস নেতা মুকুল ওয়াসনিক।
ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির দায় মাথায় নিয়ে গত মে মাসে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। এরপর থেকেই শুন্য রয়েছে দলের শীর্ষ পদটি। রাজ্য নেতৃত্ব ও নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচনের আশা প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী।
ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন দলটির ১৩৪ বছরের ইতিহাসে বেশিরভাগ সময়ই গান্ধী-নেহরু পরিবার থেকেই কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলানো হয়েছে। তবে বর্তমানে রাজনীতিতে থাকা এই পরিবারের রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী এবং প্রিয়াংকা গান্ধী তিনজনই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুকুল ওয়াসনিককে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নরসীমা রাও এ মনমোহন সিং-এর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি। সোনিয়া গান্ধীর সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ৫৯ বছর বয়সী সাবেক এই মন্ত্রী। বিপুল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকায় তাকেই কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অন্ততপক্ষে সাংগঠনিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।
শুক্রবার সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনের বিশেষ বৈঠকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একে অ্যান্টোনি, আহমেদ প্যাটেল ও কেভি ভেনুগোপাল উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে কংগ্রেসের সভাপতি বেছে নিতে আর দেরি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কংগ্রেসে অচলাবস্থা চলছে। নেতারা বারবার রাহুল গান্ধীর মত পরিবর্তনের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি। এমনকি নতুন কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করার বিষয়েও একমত হতে পারেননি।
বিজেপি সরকারের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের সমালোচনার ক্ষেত্রে তালগোল পাকিয়ে ফেলে কংগ্রেস নেতারা। এই ধারা বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পার্লামেন্টে ফেটে পড়েন গুলাম নবী আজাদ ও কপিল সিবালের মতো কংগ্রেস নেতারা। অপর দিকে পার্লামেন্টের বাইরে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, মিলিন্দ দেওয়ারা, জয়বীর সার্জিল, করণ সিং বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান।








