কাশ্মির সফর করতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সেখানকার গভর্নর সত্য পাল মালিক। সোমবার এক বিবৃতিতে কাশ্মিরের গভর্নর বলেন, কংগ্রেস নেতা তার আমন্ত্রণ নিয়ে রাজনীতি করেছেন বুঝতে পেরে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতের বিরোধীদলগুলোর একটি প্রতিনিধি দলকে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার দুই দিনের মাথায় এই বিবৃতিতে দিলেন গভর্নর। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এই খবর জানিয়েছে।
গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে জম্মু-কাশ্মির। জম্মু-কাশ্মিরের সহিংস পরিস্থিতি ও সরকারি পদক্ষেপের সমালোচনা করায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানান গভর্নর সত্য পাল মালিক। ১২ আগস্ট তিনি বলেন কংগ্রেস নেতার জন্য তিনি একটি বিমান পাঠাতে চান। পরদিন এক টুইট বার্তায় গভর্নরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও তার পাঠানো বিমানে যেতে অস্বীকৃতি জানান কংগ্রেসের সদ্য সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী। সেখানে গিয়ে রাহুল রাজনৈতিক নেতাকর্মী,সাধারণ মানুষ ও জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চান গভর্নরের কাছে।
গত শনিবার (২৪ আগস্ট) ভারতের বিরোধী দলগুলোর ১১ জন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি থেকে বিমানে করে শ্রীনগরে পৌঁছান রাহুল গান্ধী। কাশ্মিরে ঢুকতে চাইলেও বিমানবন্দর থেকেই তাদের দিল্লিতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর আগেই সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেখানে তাদের ঢুকতে দেওয়া হবে না।
এই ঘটনার দুইদিন পরে সোমবার এক বিবৃতিতে কাশ্মিরের গভর্নর সত্য পাল মালিক বলেন, ‘আমি যখন রাহুল গান্ধীকে জম্মু-কাশ্মির সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা’। মালিক অভিযোগ করেন বিরোধী নেতাদের উপস্থিতি উপত্যকায় সমস্যা বাড়াতে পারে জেনেও রাহুল তাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, তাদের আটক নেতাদের সঙ্গে দেখা করা এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করা আইন শৃঙ্খলার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখা হয়েছে।
বিজেপি সরকারের নিয়োগ করা কাশ্মিরের গভর্নর বলেন, ‘আমার আমন্ত্রণ নিয়ে রাহুল গান্ধী যখন এমন রাজনৈতিক খেলা খেললেন তখন আমি আমার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। রাহুল গান্ধীকে কাশ্মির সফর করতে দেওয়া হবে কি না তা প্রশাসনের বিশেষ ক্ষমতা। প্রশাসন আগেই পরিষ্কার করেছে যে যখন আমরা উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তখন তা লঙ্ঘন করতে কোনও রাজনীতিবিদের আসা উচিত হবে না’।
কাশ্মিরে প্রশাসনের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে কংগ্রেস নেতা সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন গভর্নর সত্য পাল মালিক। তিনি বলেন, ‘আমি রাহুল গান্ধীকে বলতে চাই যে ধরণের বক্তব্য তিনি দিচ্ছেন তা পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে থাকে। তার বুঝতে হবে জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি ভঙ্গুর আর তার বক্তব্য জাতীয় স্বার্থ ক্ষুন্ন করতে পারে। আমি তাকে এই স্পর্শকাতর ইস্যুক সস্তা রাজনীতি হিসেবে ব্যবহার না করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি’।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ওই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে। মিডিয়া কার্যত অকার্যকর হয়ে রয়েছে। মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হলেও রাষ্ট্র তা স্বীকার করছে না।








