রোহিঙ্গা গণহত্যা

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে

ব্রজেশ উপাধ্যায়, ওয়াশিংটন
২৭ আগস্ট ২০১৯, ০৮:৫৯আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ১১:৪৬

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় দেশটির সরকারের ওপর শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে। সোমবার নতুন করে শীর্ষস্থানীয় একাধিক মার্কিন আইনপ্রণেতা এক বিবৃতিতে এমন একটি আইনের প্রস্তাব করেছেন, যাতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মম সহিংসতার জন্য মিয়ানমার সরকারকে নতুন নিষেধাজ্ঞার চাপে ফেলা যায়। একইসঙ্গে এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ
এ আহ্বান জানানো ব্যক্তিরা হচ্ছেন হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এবং ডেমোক্র্যাট নেতা ইলিয়ট এনজেল, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা স্টিভ চ্যাবোট, ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বেনিয়ামিন এল কার্ডিন, রিপাবলিকান সিনেটর টড ইয়াং। তারা মূলত রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় বার্মিজ সরকারে থাকা সামরিক বাহিনীর অংশটির ওপর জোরালো নিষেধাজ্ঞার তাগিদ দিয়েছেন। মার্কিন সিনেটে নিজেদের সহকর্মীদের প্রতি তাদের আহ্বান, ঊর্ধতন বার্মিজ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ইতোমধ্যে প্রতিনিধি পরিষদ কর্তৃক গৃহীত আইনটির ভাষা যেন পরিবর্তন করা না হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের বিশ্বাস সেখানে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সেটি গণহত্যার মতো অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য এখনও অর্থবহ জবাবদিহিতা রয়েছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলেন, এখন বার্মিজ সামরিক বাহিনী দেশটির অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের সন্ত্রস্ত করে তুলছে। কয়েক দশক ধরে এটা অব্যাহত রয়েছে। এই নৃশংসতার বিচার হওয়া উচিত।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, তারা অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরদার করে বর্মী সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। মিয়ানমারের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার হরণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের এক অনুসন্ধানী দল জানায়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারীরা ধারাবাহিকভাবে বর্মী সেনাবাহিনীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ঘটনা তদন্তে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে সেইসব ভয়াবহ যৌন নিপীড়নেরা ঘটনা সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয় ওই তদন্ত দল।

রোহিঙ্গা নিধনের দুই বছরপূর্তিতে দেওয়া বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দফতর সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাজনৈতিক সংলাপে বসে মানবিক সহায়তা সরবরাহের আহ্বান জানানো হয়। দফতরের মুখপাত্র মর্গান অর্তেগাস বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর দায়বদ্ধতার অভাব এবং তাদের ওপর বেসামরিক নজরদারির এখতিয়ার না থাকায় এখনও রাখাইনে নিপীড়ন চলছে, একই ঘটনা কাচিন, শান কিংবা মিয়ানমারের অন্যান্য রাজ্যেও।’

সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অন্যদেরও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ২০১৭ সালের সহিংসতা পর এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

অর্তেগাস বলেন, ‘মিয়ানমারকে শক্তি, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিচার ও দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানাই।’

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়েছিল। এখনও রাখাইনে তাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

ইতোমধ্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ওপর অর্থনৈতিক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি মেনে একে গণহত্যা বলেনি তারা। এই আখ্যা দিলে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পেতো। তবে তারা এখনও একে জাতিগত নিধন আখ্যা দিচ্ছে, যার প্রভাব গণহত্যার মতো নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা কফি আনান নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে। এটাই রাখাইন রাজ্য এবং যারা পালিয়ে গেছে তাদের জন্য সেরা পথ।

/এমপি/এমএমজে/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম