ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের শিশুদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে পাকিস্তানে প্রতিবাদ জানিয়েছে শিশুরা। বুধবার দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে কাশ্মিরি শিশুদের প্রতি সংহতি জানিয়ে মিছিল করে প্রতিবাদ জানায় শত শত শিশু। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
চলতি বছরের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে কাশ্মির। গ্রেফতার করা হয়েছে শত শত নেতাকর্মীকে। জারি রয়েছে বিধিনিষেধ। কাশ্মিরের উন্নয়নের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বিজেপি সরকারের পক্ষে এমন দাবি করা হলেও সেখানে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদের ‘পাকিস্তান সুইট হোমস’ নামের একটি এতিমখানা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পার্লামেন্ট ভবন পর্যন্ত যাওয়ার পর শেষ হয়। সেখানে তারা প্রতিবাদ জানায় এবং ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। সেসময় তারা ‘আমরা তাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছি, কাশ্মিরি শিশুরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য থেকে বঞ্চিত’ ‘কাশ্মিরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে’ সম্বলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করে।
সালমান রফিক নামের এক ওই এতিমখানার শিশু আনাদোলু এজেন্সিকে বলে, ‘আমরা কাশ্মিরি শিশুদের প্রতি সংহতি প্রদর্শন করতে এখানে হাজির হয়েছি। যারা ৫১ দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। জম্মু-কাশ্মিরের শিশুদের বাঁচানো উচিৎ বিশ্বের।’
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের শিশুদের সংহতি প্রদর্শন করে পাকিস্তানি শিশুরা সেখানকার কারফিউ প্রত্যাহার ও বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানায়।
পাকিস্তান সুইট হোমসের পরিচালক জাম্মুরাদ খান বলেন, ‘৫১ দিন ধরে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ, শিশুরা তাদের বাবা-মার সঙ্গে উন্মুক্ত কারাখারে আছে। ভারত সরকার শিশুদের সব অধিকার হরণ করেছে। কাশ্মিরি শিশুরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তাই পাকিস্তানি শিশুরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
পাকিস্তান সুইট হোমস হলো কল্যাণমূলক সংস্থা। সন্ত্রাস, বন্যা এবং অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে তাদেরকে সহায়তা দেয় ওই সংস্থা। জম্মু-কাশ্মিরের শিশুদের জন্য ও তাদের অধিকার পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থাগুলোকে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানায় ওই শিশুরা।







