কমিউনিস্ট শাসনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার বেইজিংয়ে যখন শক্তি প্রদর্শনে মত্ত চীন, ঠিক সেই সময়ে হংকং-এর রাস্তায় চীনবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে মানুষ। বিক্ষোভের তীব্রতায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হংকং-এর ১৪টি সাবওয়ে স্টেশন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর পেপার স্প্রে নিক্ষেপ করে পুলিশ।
চীনের জাতীয় উদযাপনের দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করছে হংকং-এর বাসিন্দারা। স্থানীয় সাংবাদিক ইলাইন ইউ বলেন, বেইজিং যখন উদযাপনে ব্যস্ত, তখন শোকাহত বেইজিং। টুইটারে দেওয়া পোস্টে এএফপি-র সাবেক এই কর্মী বলেন, হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা চীনের জাতীয় দিবসে শোক পালন করছে। ব্যানার নিয়ে তারা উইঘুর ও তিব্বতিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে।
জেমস ম্যা নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভ সামনে রেখে কর্তৃপক্ষ ধরপাকড় চালিয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে খ্যাতনামা অ্যাক্টিভিস্ট পর্যন্ত বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন তাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করছে না।
মঙ্গলবারের বিক্ষোভ থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তার পোস্টারে ডিম ছুড়ে মারে বিক্ষোভকারীরা। শি জিনপিং-এর ছবির ওপর নিজেদের স্লোগান স্প্রে করে দেয় তারা।
মুখোশ নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ২৭ বছরের এক ব্যক্তি। ম্যাক্স নামের ওই বিক্ষোভকারী বলেন, চীনের জন্য তার কোনও অনুভূতি নেই। ফলে দেশটির জাতীয় দিবসে তার জন্য উদযাপনের কিছু নেই।
পুলিশি ধরপাকড়ের ফলে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে মুখোশ পরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার বেইজিংয়ের তিয়ানানমেন স্কয়ারে সামরিক প্যারেডে দেওয়া ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, আমাদের অবশ্যই শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন এবং ‘এক দেশ; দুই নীতি’র বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। হংকং এবং ম্যাকাও-তে আমরা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বজায় রাখবো। আমরা পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবো। পুনরায় ‘একত্রীকরণের’ জন্য বেইজিং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হংকং-এর নাম না নিয়েই তিনি বলেন, চীন সরকার সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশটির স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দুনিয়ায় এমন কোনও শক্তি নেই যা এই মহান জাতিকে ঝাঁকুনি দিতে পারে। এ দেশের মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম। ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে চীনা জাতি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। সুতরাং এ জাতির অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।
শি জিনপিং বলেন, আজ একটি সমাজতান্ত্রিক চীন দুনিয়ার পূর্ব দিকে দাঁড়িয়ে আছে। এই মহান জাতির ভিত্তি কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো কোনও শক্তি দুনিয়ায় নেই। চীনের বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং এ ভূখণ্ডের দেশপ্রেমিক মানুষ পুরো দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। চীনের উন্নয়নে সমর্থন যোগানো সব বন্ধু জাতিরাষ্ট্রের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সূত্র: সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান।








