চীনের জাতীয় দিবসে সবচেয়ে সহিংস ছিলো হংকং: পুলিশ

বিদেশ ডেস্ক
০২ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৩০আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৩০

চীনের জাতীয় দিবস উদযাপনের দিন মারাত্মক সহিংস হয়ে ওঠে হংকংয়ে চীনবিরোধী আন্দোলন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলিও চালাতে হয় পুলিশকে। হংকংয়ের পুলিশ প্রধানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এতটা সহিংস আন্দোলন হয়নি দেশটিতে।

চীনের জাতীয় দিবসে সবচেয়ে সহিংস ছিলো হংকং: পুলিশ

চীনের জাতীয় উদযাপনের দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করছে হংকং-এর বাসিন্দারা। স্থানীয় সাংবাদিক ইলাইন ইউ বলেন, বেইজিং যখন উদযাপনে ব্যস্ত, তখন শোকাহত হংকং। হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা চীনের জাতীয় দিবসে শোক পালন করছে। ব্যানার নিয়ে তারা উইঘুর ও তিব্বতিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। সেদিনই পুলিশের গুলিতে এক তরুণ আহত হয়। টানা চারমাস ধরে চলা চীনবিরোধী আন্দোলনে এটা পুলিশের প্রথম গুলি ছিলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণের বুকে গুলি চালায় পুলিশ। সেদিন ছয় রাউন্ড তাজা গুলি চালানো হয়। মোট ১০৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় আর আটক করা হয় ১৮০ জনকে।  

পুলিশ প্রধান স্টিফেন লো বলেন, সহিংসতায় অন্তত ২৫ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা পেট্রলবোমাও নিক্ষেপ করে বলে দাবি করেছে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের কাঁধে গুলি করে পুলিশ। এছাড়া সতর্কতামূলকভাবেও কয়েক রাউন্ড গুলিও চালানো হয়।

সরকারের দাবি, গুলিবিদ্ধ ওই তরুণের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে তাকে গ্রেফতারের ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলেন। বলছিলেন, আমার হাসপাতালে যাওয়া দরকার। ইতোমধ্যে এই ঘটনার সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য।   

এর আগে আন্দোলনকারীদের ওপর রাবার বুলেট ব্যবহার করা হলেও তাজা গুলির ঘটনা এবারই প্রথম। স্টিফেন লো’র দাবি, গুলি চালানো ‘বৈধ ও দায়িত্বশীল’ আচরণ ছিলো। কারণ ওই পুলিশ ভেবেছিলেন তার এবং সহকর্মীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই তরুণের স্কুলের সামনেও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে শত শত মানুষ। অন্যদিকে আদালতের সামনে বিক্ষোভ করেছে ৯৬ জন শিক্ষার্থী।

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতা, বৃহত্তর গণতন্ত্র ও চীনের নিযুক্ত নির্বাহী প্রধানের পদত্যাগের দাবি।

/এমএইচ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম