যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, আইনপ্রণেতারা আগামী ১২ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্মতি দিলে তিনি ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে আরও বেশি বিতর্কের সুযোগ দেবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৩১ অক্টোবরের ব্রেক্সিট সময়সীমা বাড়াতে সম্মতি দেবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে ‘সত্যিই’ তিনি এটা চান না। নির্বাচন অনুষ্ঠানে আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে একটি ভোটাভুটির আয়োজনে বিরোধী দল লেবার পার্টির সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।
দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর গত সপ্তাহে ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইইউ-জনসন সমঝোতা হয়। প্রক্রিয়া মাফিক ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে হলে তার আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এটি অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।মঙ্গলবার সরকার প্রস্তাবিত ১১৫ পৃষ্ঠার চুক্তির খসড়া হাউস অব কমন্সে উত্থাপন করা হলে তা আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়। আালোচনার পক্ষে ৩২৯টি ভোট পড়ে, ওই চুক্তির বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৯৯টি। পার্লামেন্ট আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিলেও জনসনের পক্ষ থেকে আলোচনা তিন দিনের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার যে প্রস্তাব তোলা হয়, তা ৩২২-২০৮ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। ভোটাভুটির পর জনসন বলেন, এমপিরা আরও দেরি করিয়ে দেওয়ায় তিনি হতাশ। এখন ইইউর পরবর্তী পদক্ষেপ দেখা পর্যন্ত তিনি তার ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া স্থগিত রাখবেন।
বিবিসি জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে আশা করা হচ্ছে ইইউ আগামী জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে সম্মত হবে। ফলে আগামী ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে পার্লামেন্টে সামনের সপ্তাহে ভোটাভুটি আয়োজন করতে চান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এর আগে বিরোধী দল লেবার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে তাতে সম্মত হবে তারা।
প্রসঙ্গত, ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে এ বছরের গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী কনজারভেটিভ নেতা বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি।








