পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার সরকারকে পদত্যাগ করতে দুইদিনের সময় বেঁধে দিয়েছে জামায়াতে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই)। পার্টির আমির মাওলানা ফজলুর রহমান শুক্রবার (১ নভেম্বর) ইসলামাবাদে এক প্রতিবাদী মিছিল থেকে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। পদত্যাগের দাবিকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি উল্লেখ করেছে এর নিন্দা জানিয়েছে সরকার। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকারের অযোগ্যতা, নির্বাচনে কারচুপি আর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে রবিবার (২৭ অক্টোবর) ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের দক্ষিণের শহর করাচি থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে সরকারবিরোধী পদযাত্রা শুরু করে জেইউআই। এরইমধ্যে আন্দোলনকারীরা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। দীর্ঘ এক পদযাত্রা শেষে শুক্রবার (১ নভেম্বর) ভোরের দিকে বিরোধী দলগুলোর হাজার হাজার অনুসারী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদে জড়ো হয়। আন্দোলনে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের অনুসারীরাও অংশ নিয়েছে। দুর্নীতি নির্মূল ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছর ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম ইমরান খানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আন্দোলন হলো।
ইসলামাবাদে হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, ‘ভোট চুরি করেই দেশের ক্ষমতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত। না হলে আমরাই তাকে উৎখাত করবো। তার সরকার সেনাবাহিনীর ওপর ভর করে ঠিকে আছে। আমি (ইমরান ও সরকার) পদত্যাগের জন্য দুইদিনের সময়সীমা বেঁধে দিলাম।’ তবে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সেনাবাহিনী।
ধর্মীয় নেতা বিশৃঙ্খলার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার দুইদিনের মধ্যে পদত্যাগ না করে তাহলে পরবর্তীতে আমরা আমাদের করণীয় ঠিক করবো। এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াতে চাই না। আমরা চাই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষ থাকুক।
পুলিশ জানিয়েছে, এ প্রতিবাদী র্যালিতে ৩৫ হাজারের মতো মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। এ উপলক্ষ্যে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। সেখানকার কিছু বিদ্যালয় ও রাস্তা বন্ধ করা হয়। গণপরিবহন বাতিল ও কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত ছিল।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আগেই ইমরান খানকে আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ ও দুইপক্ষকে সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান।’
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিরোধীদের চাপের মুখে পদত্যাগ করবে না সরকার। বিরোধীরা গণতন্ত্র রক্ষার কথা বললেও আসলে এ আন্দোলন গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক সময়ই পাকিস্তান সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। দেশটিতে প্রায়শই জনগণের সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এক ধরনের দা-কুমড়ো সম্পর্ক বিরাজ করে। গত ৭০ বছরের ইতিহাসে কোনও প্রধানমন্ত্রীই এখানে পূর্ণ মেয়াদে সরকারে থাকতে পারেননি।








