ভারতের সমরাস্ত্রের ভাণ্ডারে আরও একটি শক্তিশালী একটি অস্ত্র যোগ হতে চলেছে। কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৮ নভেম্বর (শুক্রবার) ভারত ‘কে-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে। এই পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রটি জলের তলায় একটি সাবমেরিন থেকে ছোড়া হবে। এর রেঞ্জ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার।
ভূবনেশ্বরের সরকারি সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ডিআরডিও) এই কে-৪ পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। শুক্রবার ক্ষেপণাস্ত্রটি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তম উপকূলে আরিহন্ত সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হবে। কে-৪ ছাড়াও ভারতের হাতে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যেটি জলের তলা থেকে ছোড়া যায়। সেটি হলো ৭০০ কিলোমিটার রেঞ্জের বিও-৫।
শুক্রবার ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ণ ক্ষমতার সঙ্গে ছোড়া হবে নাকি স্বল্প দূরত্বে নিক্ষেপ করা হবে তা ডিআরডিও পরিষ্কার করে জানায়নি। তবে ভারতের তরফে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা ইতোমধ্যেই জারি করে রাখা হয়েছে।
গত মাসেই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, জলের তলা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়ার পরীক্ষা সফল হলে তবেই এটি দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে যোগ করা হবে।
২০১২ সালে অগ্নি-১-এর সফল পরীক্ষার পর ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়, ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তৃতীয় এবং ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ পরীক্ষামূলক সফল উৎক্ষেপণ হয়েছিল। সে সময় বলা হয়েছিলো, সেটা ছিল তিন পর্যায়ে মিসাইল পরীক্ষার চতুর্থ এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে অগ্নি-৫ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাবে যুক্ত হয় ভারতের নাম। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স আর যুক্তরাজ্য রয়েছে ওই ক্লাবে।
ডিআরডিও আগামী কয়েক সপ্তাহে অগ্নি-৩ ও ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রও পরীক্ষার পরিকল্পনা করেছে।








