প্যারিসে শুক্রবার হামলার সময় কাসা নস্ত্রা রেস্তোরাঁর কাজ করছিলেন সাফের। হঠাৎই গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগে দেখেন রেস্তোরাঁর জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ছে। আতঙ্কিত লোকজন ছোটাছুটি করছে। কেউ বা মেঝেতে শুয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এ পরিস্থিতির মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাফের দু’জনকে বাঁচালেন। কিন্তু মুসলিম হওয়ায় আতঙ্কে আছেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাফের বলেন, ‘আমি কাউন্টারে দাঁড়িয়েছিলাম। বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম, প্রচণ্ড শব্দ। সবাই চিৎকার করতে শুরু করল। আমাদের ওপর ঝুরঝুর করে কাঁচ ভেঙে পড়ল। আমাদের মুখে এসে কাঁচের টুকরো লাগছে। খুবই ভয় লাগছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম বারান্দায় দাঁড়ানো দুই নারীর গায়ে গুলি লেগেছে। একজনের কবজিতে, আরেকজনের কাঁধে। খুব রক্তপাত হচ্ছে।’ বিপদ হতে পারে জেনেও সাফের তাদেরকে সাহায্য করবেন বলেই মনস্থ করেন। গোলাগুলি একটু কমলে তাদের কাছে ছুটে যান। এরপর তাদের নিয়ে ভূগর্ভস্থ একটি ঘরে নিয়ে গেলাম এবং রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন সাফির।
ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গোলাগুলি থামার পর বাইরে এসে দেখলাম, ভয়াবহ পরিস্থিতি। রাস্তায় অনেক মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। বহু মানুষ আহত।’
কাসা নস্ত্রা রেস্তোরাঁটি যেখানে অবস্থিত সেখানে বহু মুসলিম এবং আরব বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। এটি প্যারিসের মুসলিমদের অন্যতম একটি আবাসস্থল। হামলার পর এখানকার মুসলমানরা আতঙ্কে রয়েছেন।
জামাল নামে একজন বলেন, ‘হামলাকারীদের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। তারপরও ফরাসিরা আমাদেরকে আর আপন করে নেবে না।’
জামালের মতো আলজেরিয়া বংশোদ্ভূত সাফেরও আতঙ্গে আছেন। মুসলিমদেরই একটি দল ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করছে কেন-এ প্রশ্নের জবাবে সাফের বলেন, ‘এর সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। সত্যিকারের মুসলমানেরা কখনও মানুষ হত্যা করবে না। যারা ধর্মের নামে এসব কাজ করছে তারা অপরাধী। তাদের কোনও ধর্ম নেই।’ খবর: বিবিসি।
/এসটি/








