বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছে চীন। জাপানে চলমান জি-২০ সম্মেলনে দেশটির শীর্ষ ওয়াং ই কূটনীতিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার জন্য দেশটির রাজনীতিবিদরা ভিত্তিহীনভাবে চীনকে দোষারোপ করছে।
চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ শুরু করে। এই বাণিজ্য যুদ্ধ নিরসনে চলতি বছরের মে মাসে ওয়াশিংটন-বেইজিং আলোচনায় বসলেও কোনও চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়।
জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইন বৈঠকে ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্র স্টেফ ব্লোকের সঙ্গে আলাপকালে চীন রাষ্ট্রীয় পরামর্শক ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও সংরক্ষণবাদ নীতির কারণে জোটবদ্ধ ব্যবসায়িক কাঠাবো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এটি বিশ্বের সবচেয়ে অস্থিতিশীল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াং আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রঅজনৈতিক উদ্দেশ্য রাষ্ট্রীয় শাসনযন্ত্র দিয়ে বৈধ চীনা ব্যবসায় আক্রমণ করেছে এবং ভিত্তিহীনভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে যা উষ্কানিমূলক। তিনি বলেন, কিছু মার্কিন রাজনীতিবিদ বিশ্বের সবজায়গায় চীনকে পরাস্ত করতে চেয়েছে কিন্তু কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
চীনা কূটনীতিক অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভ্যন্তরীণ আইন দিয়ে ‘নিষ্ঠুরভাবে’ চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে এবং হংকংয়ের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করেছে। এ সপ্তাহে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে হংকংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে চীনতে সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যাপারে দুটি বিল পাস হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে স্বাক্ষর করে আইন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াং বলেন, চীনের উন্নয়ন অভাবনীয় গতিতে এগিয়ে চলছে এবং কেউ এটি থামাতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উইন-উইন সহায়তাই এখন উত্তম পথ।








