তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু বলেছেন, ইরাকে অবস্থানরত তুর্কি সেনারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তুরস্ক সফররত ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানির সঙ্গে আঙ্কারায় এক বৈঠকে এ দাবি করেন দাভুতোগলু।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর ইরাকে দায়েশ-বিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের কাজে মোতায়েন তুর্কি সেনা প্রশিক্ষক দলের জীবন বিপণ্ন হয়ে পড়ায় সশস্ত্র সেনা পাঠাতে বাধ্য হয়েছে আঙ্কারা। মসুলের বাশিকা ঘাঁটিতে আমাদের মোতায়েনকৃত প্রশিক্ষকদের হত্যার হুমকি দিয়েছে দায়েশ। দায়েশ নিয়ন্ত্রিত মসুল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই ঘাঁটিতে হাল্কা কিছু অস্ত্র রয়েছে।
এর আগে দু’দিনের সফরে বুধবার তুরস্কে পৌঁছান কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানি। রাজধানী আঙ্কারায় তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আহমেদ দাভুতোগলু ছাড়াও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি হাকান ফিদানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন মাসুদ বারাজানি।
তুরস্কে রুশ বিমান ভূপাতিত করার পর থেকেই মূলত তুর্কি সরকারের সঙ্গে বাগদাদের শীতল সম্পর্ক দৃশ্যমান হয়। সম্প্রতি ইরাকে আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে মোতায়েনকৃত তুর্কি সেনাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি।
ইরাকের মসুলে তুর্কি সেনা মোতায়েনের বিষয়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে সম্প্রতি চিঠিও দিয়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু। চিঠিতে তিনি মসুলে মোতায়েন তুর্কি সেনাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ইরাকি নেতাকে অবহিত করেন।
আহমেদ দাভুতোগলু চিঠিতে লিখেছেন, ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিনষ্ট হয় এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না তুরস্ক। বরং দায়েশের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাগদাদকে সাহায্য করতে আংকারা প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর ধরে আইএস বা দায়েশের দখলে রয়েছে মসুল। সেখানে আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছেন ইরাকের কুর্দি যোদ্ধারা। এই কুর্দি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য মসুলের বাশিকা শহরের কাছে ১৫০ জন সেনা মোতায়েন করেছে তুরস্ক। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত এলাকাগুলোতে কুর্দি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তুরস্কের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু নিজের সীমান্তে সিরিয়ার কুর্দিদের সাথে বৈরী সম্পর্ক রয়েছে দেশটির। সূত্র: প্রেস টিভি, আনাদোলু, বিবিসি।
/এমপি/








