ভাষা ও উচ্চারণের বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে নতুন বছরে ব্রিটিশ সরকারের সম্মাননা পাচ্ছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্বের অধ্যাপক অদিতি লাহিড়ী। মঙ্গলবার কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই শিক্ষক বৈচিত্র্যকেই ভারতের মূল সুর আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, এখানে কোনও একটি ভাষা বা সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
গত শনিবার ‘নিউ ইয়ার্স অনার্স লিস্ট ২০২০’ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এতে স্থান পেয়েছেন কিংবদন্তী গায়ক স্যর এলটন জন, প্রাক্তন ক্রিকেটার ক্লাইভ লয়েড, হালের তারকা ক্রিকেটার বেন স্টোকসের নাম। ওই লিস্টে ‘কমান্ডার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (সিবিই)’ উপাধি পেয়েছেন অদিতি লাহিড়ী। কলকাতায় থেকেই এই লিস্টে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ভাষাতত্ত্বের মতো বিষয় এখানে জায়গা পেয়েছে বলেই ভাল লাগছে।’
সম্প্রতি ভারতে একাধিকবার রাজনৈতিক বিরোধে ভাষার ব্যবহার ঘটেছে। গত জুনে জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়ায় হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করা হলে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিন্দিকে ভারতের একক ভাষা করার প্রস্তাব দিলে দেশজুড়ে তার তীব্র বিরোধিতা হয়।
অদিতি লাহিড়ীও মনে করেন ভারতের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশে একক ভাষা প্রচলন সম্ভব না। তিনি বলেন, হিন্দি তো একরকম নয়। বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দির উচ্চারণ ভিন্ন। আর নানা ভাষার বৈচিত্রই তো ভারতের মূল কথা, মূল ঐতিহ্য’।
ভৌগলিক অবস্থান থেকেই ভারতের বৈচিত্র্য এসেছে বলে জানিয়ে অদিতি লাহিড়ী বলেন, দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকার ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যাভ্যাস, পোশাক স্থানীয় আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মানুষের শারিরীক গঠনও আলাদা। তাই উচ্চারণও এক হওয়া সম্ভব নয়। বৈচিত্র্যই ভারতের মূল সুর।








