ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) হামলার প্রতিবাদে দিল্লির রাজপথে নেমেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মান্ডি হাউজ থেকে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি পালনের পর রাষ্ট্রপতি ভবন অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ব্যারিকেড অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে হয়। সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ৬ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় জেএনইউতে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে একদল মুখোশধারী। লাঠি ও পাথর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে ত্রাসের সঞ্চার করে তারা। হামলায় অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক। হিন্দুত্ববাদী এবিভিপি ও বাম সংগঠনের সদস্যরা পরস্পরকে হামলার জন্য দায়ী করছে। তবে ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশি ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রাবাসের ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার সময় বাম ও ডানপন্থী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং ঐশীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
রাষ্ট্রপ্রতি ভবন অভিমুখে জেএনইউর শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা শুরু করার পর সন্ধ্যায় পথে তাদের বাধা দেয় দিল্লি পুলিশ। এনডিটিভির প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের গাড়ি ও ব্যারিকেডের সামনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে কিছু শিক্ষার্থী পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করছেন। তাদের কয়েক জনকে আটক করে বাসে নিয়ে গেছে পুলিশ।
আন্দোলনকারীরা মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন। ৬ জানুয়ারির হামলার ঘটনায় নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ওই স্মারকলিপি দেওয়ার কথা ছিল। সেখানে জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষের নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক হয়। পরে ঐশী বলেন, ‘আমরা এইচআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে আপস করার মতো অবস্থায় নেই। আমাদের দাবি, ভিসির পদত্যাগ করা উচিত।’
বৈঠকের পর ফলাফল ‘অসন্তোষজনক’ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতি ভবন অভিমুখে পদযাত্রা ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেন। ওই মিছিলে যোগ দিয়েছেন বাম নেতা সিতারাম ইয়েচুরিসহ অন্যান্য বাম নেতারা।








