ইরানে হামলা চালানোয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম টানার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বৃহস্পতিবার বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের আনা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে কোনও ধরনের সংঘাতে জড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কোনও অনিবার্য হামলার ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন হবে না। প্রস্তাবটিকে বৃহত্তর অর্থে প্রতীকি আখ্যা দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে এটি অনুমোদিত হওয়ার আশা করা হলেও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ পরিচালনার কর্তৃত্ব কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে ভাগাভাগি করা। যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা রয়েছে কংগ্রেসের আর যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষায় সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। এই হামলার ‘মারাত্মক প্রতিশোধ’ হিসেবে বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ইরাকের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। তবে এরপরে নতুন করে কোনও দেশই পরস্পরের ওপর হামলার ঘোষণা দেয়নি।
বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, সোলাইমানিকে হত্যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি নিরাপদ করেছেন বলে বিশ্বাস করেন না তিনি। এর আগে বুধবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম টানতে কংগ্রেসে ভোটাভুটির ঘোষণা দেন তিনি। ওই সময় তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো সংক্রান্ত প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের মারাত্মক ও জরুরি উদ্বেগ রয়েছে’। বৃহস্পতিবার ওই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় আশা প্রকাশ করেছেন সব রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেবে।
১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন উদ্ধৃত করে প্রস্তাব এনেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই আইনে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র সংঘাতে জড়ানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কংগ্রেসকে নিয়ন্ত্রণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের আনা প্রস্তাবটি কনকারেন্ট প্রস্তাব নামে পরিচিত। এই ধরনের প্রস্তাবের পাস হলেও প্রেসিডেন্ট তা মানতে বাধ্য কিনা তা আইনগতভাবে স্পষ্ট নয়।






