ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে ফের নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে রাজ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় মোদি সাফ জানিয়ে দেন, এ ব্যাপারে পিছু হটার কোনও প্রশ্নই উঠে না। ফলে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে কলকাতার রাস্তায় তাকে যতই কালো পতাকা দেখানো হোক না কেন তাতে কোনও লাভ হবে না।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, যারা এই আইনের বিরোধিতা করছেন, তারা হাতেগোণা। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন রয়েছে এতে। সুতরাং কোনও সংশয় না রেখে রাজ্য বিজেপি নেতাদের এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।
শনিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (সাবেক দমদম বিমানবন্দর) অবতরণ করেন মোদি। এর আগে শুক্রবার রাতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের গেজেট প্রকাশ করে ওইদিন থেকেই আইনটি কার্যকরের কথা জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার কলকাতায় নেমেই রাজ্য বিজেপি-র প্রবীণ নেতা মুকুল রায়কে মোদি প্রশ্ন করেন, বাংলার পরিস্থিতি কেমন? আপনারা কী বুঝছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন? উত্তরে মুকুল রায় বলেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ইতোমধ্যেই জেলায় জেলায় প্রচারে নেমেছেন তারা। এতে জনগণের তরফ থেকেও বিপুল সমর্থন মিলছে। বিশেষ করে শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকায় মানুষ তাদের ব্যাপক সমর্থন জানাচ্ছেন। মতুয়া সমাজসহ পিছিয়ে পড়া মানুষরাও খুশি। কেননা, বিজেপি প্রতিশ্রুতি রেখেছে।
পরে রাজভবনে ফের মোদির সঙ্গে দেখা করতে যান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, রাহুল সিনহা প্রমুখ। সেই সংক্ষিপ্ত বৈঠকেও আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন মোদি। তিনি বলেন, এনআরসি নিয়ে যেন কোনও বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। আপাতত এনআরসি হচ্ছে না। তবে এনপিআর তথা জনসংখ্যা নিবন্ধীকরণের প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গেও হবে। এটি না হলে এখানকার মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এ বিষয়টি মানুষকে বোঝাতে হবে।
বিজেপি-র রাজ্য পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়তো ধারণা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে তিনি তৃণমূলের প্রতি নরম হবেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের গতি কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনও আশঙ্কা আমাদের নেই। বরং প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, আইন তার নিজের পথেই চলবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে কোনও আপস হবে না। সূত্র: দ্য ওয়াল।








