করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে নমস্কার সম্বোধনের অভ্যাস গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতীয় জনৌষধি পরিযোজন প্রকল্পের উপভোক্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তাগিদ দেন তিনি। একইসঙ্গে কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন মোদি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে কী করণীয়, কী নয়, তা নিয়ে স্রেফ অন্যের মুখের কথায়, গুজবে ভরসা না করে সন্দেহ হলে ডাক্তারের কাছে যান।’
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় হাত মেলানো বা করমর্দনের পরিবর্তে দূর থেকে নমস্কার বা ‘নমস্তে’ বলার রীতি ‘জনপ্রিয়’ করারও পরামর্শ দেন মোদি। তিনি বলেন, নমস্তে’ বলার পুরোনো অভ্যাস ফিরিয়ে আনার এটাই সঠিক সময়। যদি কোনও কারণে আমরা এই অভ্যাস ভুলে গিয়ে থাকি, তাহলে আবার শিখে নেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। হাত মেলানো এড়িয়ে আবার নমস্তে সম্বোধন চালু হওয়া উচিত।
ভারতে এ পর্যন্ত ৩৩ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে কমপক্ষে ২৯ হাজার মানুষের করোনা টেস্ট করে তাদের পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে। ভাইরাসটি যাতে কোনওভাবেই ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সরকারিভাবে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
দিল্লি সরকার করোনা নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব স্কুলকে মর্নিং অ্যাসেম্বলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ডিরেক্টর অব এডুকেশন এ ইস্যুতে সব সরকারি-বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপালকে চিঠি দিয়েছে।
করোনা ঠেকাতে কর্মীদের অফিসে ঢোকা বা বেরোনোর সময়ে বায়োমেট্রিক ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দৈনিক রেজিস্টারে নাম স্বাক্ষর করলেই চলবে। শুক্রবার পার্সোনেল এবং ট্রেনিং মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার এরইমধ্যে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে বিদেশি যাত্রীদের শারীরিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। এতদিন ২১টি বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছিল। এখন আরও ৯টি বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যগুলোকে জমায়েত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জন্য বড় জমায়েত না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সেজন্য জমায়েত বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।
গাজিয়াবাদে আইসোলেশন সেন্টার
করোনা সংক্রমণ এড়াতে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলা প্রশাসন আলা হজরত হজ হাউসকে আইসোলেশন সেন্টারে পরিণত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য হজ হাউসে ৫০০ বেডের ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শৈলেন্দ্র কুমার সিং বলেন, হজ হাউসকে পরিষ্কার করে সেখানে ৫০০ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও হয়েছে। রোগীদের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরাই রোগীদের দেখবেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে হজ হাউস। সেখানেই থাকতে পারবেন আক্রান্তরা। ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতেই এই ব্যবস্থা বলে দাবি জেলা প্রশাসনের।
তাজমহল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ
সংক্রমণ এড়াতে উত্তর প্রদেশের আগ্রার মেয়র সাময়িকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাজমহলসহ দেশের সমস্ত ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছেন। স্মৃতিসৌধগুলো আপাতত কিছুদিনের জন্যে পর্যটকদের পরিদর্শনের জন্যে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন আগ্রার মেয়র নবীন জৈন। তিনি বলেন, ‘প্রচুর বিদেশি পর্যটক আগ্রা সফরে আসেন, এর ফলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। যতক্ষণ না পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ভারত সরকারকে তাজমহলসহ দেশের সব ঐতিহাসিক সৌধগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করছি।’
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজিত দিল্লিতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে একদিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে সব রাজ্য, রেল হাসপাতাল, প্রতিরক্ষা এবং আধাসেনার মোট ২৮০ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাসূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন মানুষকে রাখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করা হবে। জয়সালমীর, সুরাটগড়, সেকেন্দ্রাবাদ, চেন্নাই এবং কোলকাতায় কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র খোলা হবে।
সামরিক বাহিনীতে সংক্রমণ ঠেকাতে একাধিক নির্দেশিকায় ক্যানটনমেন্ট এবং মিলিটারি স্টেশনের মধ্যে যেসব শপিং কমপ্লেক্স রয়েছে সেখান থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্যে জওয়ানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অযথা ভিড়ে ঠাসা শপিং মল, সিনেমা হল এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় প্রত্যেক সেনা হাসপাতালকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে চলতে বলা হয়েছে। সূত্র: পার্স টুডে।








