ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সদস্যের শরীরে প্রাথমিকভাবে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। লাদাখের লে-তে কর্তব্যরত ওই সেনাসদস্যের বয়স ৩৪ বছর। আক্রান্ত হবার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে কোয়ারেন্টিন বা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
আক্রান্ত ব্যক্তি ভারতের সেনা পদাতিক বাহিনী লাদাখ স্কাউটস রেজিমেন্টের সদস্য বলে গেছে। সেনাবাহিনীর এই বিশেষ বিভাগটি বছরজুড়ে বরফের মধ্যে কাজ করে। তাই তাদের ‘স্নো ওয়ারিয়র্স’ নামেও ডাকা হয়।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরান থেকে দেশে ফেরেন ওই সেনাসদস্যের বাবা। এ সময় তিনি ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন। ২ মার্চ ফের ডিউটিতে যোগ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ মেলে।
ওই সেনাসদস্যের বাবাও আক্রান্ত হওয়ায় তাকে লাদাখ হার্ট ফাউন্ডেশনে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে। পরে ওই ভারতীয় সেনাকেও আলাদা করে রাখা হয়। রক্তের নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরেও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, কাগজে কলমে ওই সেনাসদস্য কাজে যোগ দিলেও বাস্তবে তাকে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে। তার বোন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটারস ডট ইনফো’র হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় ১৮ মার্চ দুপুর পর্যন্ত ভারতে এ ভাইরাসে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৮। সরকারি হিসাবের সূত্র ধরে এ সংখ্যা উল্লেখ করেছে ওয়ার্ল্ড ওমিটারস। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাস্তবে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
ভারতজুড়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যেই ছয় হাজার ৭০০ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার মানুষকে। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, কেউ করোনা ভাইরাসের সমাধান (চিকিৎসা ব্যবস্থা আবিষ্কার) দিতে পারলে তাকে এক লাখ ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সূত্র: বিবিসি।








