ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া

বিদেশ ডেস্ক
১২ এপ্রিল ২০২০, ১৬:৪৮আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৪৯
image

দক্ষিণ এশিয়া গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক অবস্থায় পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। রবিবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখানে দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রচেষ্টায় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে তাও ঝুঁকিতে পড়েছে। এরইমধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দৃশ্যমান।

প্রতীকী ছবি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও অন্যান্য কয়েকটি ছোট দেশের এ অঞ্চলে জনসংখ্যা ১৮০ কোটি। বিশ্বের সবথেকে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর অনেকগুলোই এই দেশগুলোতে। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এখানে করোনাভাইরাস এখনও ভয়াবহ মাত্রায় না ছাড়ালেও আগামী দিনে এই অঞ্চলটিই হয়ে উঠতে পারে করোনার ‘হটস্পট’।

সংস্থাটি জানিয়েছে, শহর ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভিত্তিক লকডাউনের কারণে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে, পশ্চিমা ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করেছে এবং বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষ আকস্মিকভাবেই কর্মহীন। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যন্ত প্রতিকূল একটি ঝড়ের কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়া। পর্যটন থেমে গেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, তৈরি পোশাকের চাহিদা ভেঙ্গে পড়েছে এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগ আস্থায় চরম অবনতি হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিলো এ বছর এ অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৩ শতাংশ। আর এখন সংস্থার পূর্বাভাস হচ্ছে প্রবৃদ্ধি কমে হবে মাত্র ১.৮ থেকে ২.৮ শতাংশ। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার অর্ধেক দেশ গভীর মন্দায় পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর অন্যতম মালদ্বীপ। এ দেশটির পর্যটন বিপর্যস্ত হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ সংকোচিত হবে। আফগানিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও ৫.৯ শতাংশ সংকোচিত হবে এবং পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সংকোচিত হবে ২.২ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক দেশ ভারতের চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র ১.৫ থেকে ২.৮ শতাংশ। যা আগের অনুমান ৪.৮-৫.০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারিতে এ অঞ্চলে অসমতা আরও প্রকট হবে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তারা স্বাস্থ্যসেবা পেলেও সামান্য পাবে, সেইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তাও খুব একটা পাবে না।

এমন বাস্তবতায় বিশ্বব্যাংক জনগণের সুরক্ষায় জরুরিভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা জনগণকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আনা ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা এবং সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তারা।

 

/এফইউ/বিএ/
সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের