লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর এক দিনের মাথায় কয়েকটি খাতের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করছে ভারত। কৃষিকাজ, ব্যাংকিং এবং সরকারি কর্মসূচির ওপর থেকে লকডাউন শিথিল করা হলেও বন্ধ থাকবে পরিবহন ও বেশিরভাগ ব্যবসা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পণ্য সরবরাহ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
ভারতে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৭৫৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যু হয়েছে ৩৭৭ জনের। জানুয়ারির শুরুতে প্রথম রোগী শনাক্ত করলেও মার্চের শুরুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মহামারি রুখতে গত ২৫ মার্চ ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করে ভারত। গত মঙ্গলবার এর মেয়াদ আগামী ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রথম দেশগুলোর একটি ভারত। ভিসা প্রদান বাতিল ছাড়াও পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হয় সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। লকডাউন শুরুর পর অভ্যন্তরীণ ট্রেন এবং বিমান পরিবহনও বাতিল করা হয়।
তবে নিষেধাজ্ঞা চালু রাখতে গিয়ে তা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে ভারত। মঙ্গলবার লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই দেশটির বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক। কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা এসব শ্রমিক নিজ বাড়িতে ফিরতে দেওয়ার দাবি জানায়।
লকডাউনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ বাতিল থাকার পাশাপাশি বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজ, শপিং মল, সিনেমা হল এবং বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে মুদি ও ওষুধের দোকানের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান চালু থাকবে। সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েতও নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে ভারত সরকার বলছে কৃষিভিত্তিক ব্যবসা চালুর অনুমোদন দেওয়া হবে। এর মধ্যে থাকবে দুগ্ধ, মৎস, চা, কফি এবং রাবার চাষ। এছাড়া সার ও যন্ত্রপাতির মতো কৃষি পণ্য বিক্রি করা দোকানও খুলতে দেওয়া হবে। এছাড়া দৈনিক মজুরিতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সরকারি কাজের কর্মসূচি চালু করা হবে। তবে এক্ষেত্রে সামাজিক শিষ্টাচার মেনে চলার শর্ত কঠোরভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্তে আটকা পড়া পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রেন ও বিমান চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হবে। এছাড়া ব্যাংকও খুলে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাংকের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং পেনশন বিতরণ চালু করবে।








