ইতালিতে বৈধতা পেতে যাচ্ছেন ছয় লাখ অবৈধ অভিবাসী। গত ১৮ এপ্রিল এমন ইঙ্গিত দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যেই অভিবাসীদের বৈধতা নিয়ে ১৬ পৃষ্ঠার একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ উদ্যোগ করোনায় বিপর্যস্ত দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
পার্লামেন্টে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ইতালির কৃষিমন্ত্রী তেরেসা বেল্লানোভা। তিনি বলেন, প্রাণঘাতী করোনায় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ছে। কেননা, সব কিছুই বন্ধ রয়েছে। কৃষিখাতে ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। এ মুহূর্তে কৃষিখাতের উন্নয়নে অনেক জনশক্তি প্রয়োজন।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ বছর এমনিতেই বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে জনশক্তি আমদানি করা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় কৃষিখাতে যদি এই জনশক্তিকে কাজে লাগানো না হয় তাহলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটে পড়তে হবে। ফলে কৃষির উন্নয়নে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করে বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেবার এই প্রক্রিয়ার খসড়া খুব শিগগিরই পার্লামেন্টে উপস্থাপন তোলা হবে বলে জানিয়েছে ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয়। ১৬ পৃষ্ঠার ওই খসড়ায় বলা হয়েছে, কৃষি, মৎস্য, পর্যটনের মতো খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজের চুক্তির মাধ্যমে কাগজ দেওয়া হবে। ইতালি সরকারের নির্ধারিত যাবতীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কর্ম মেয়াদের চুক্তিতে অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের বৈধতা দেওয়া হবে।
সরকারের এ উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। দেশটির বিভিন্ন শহরে আনুমানিক দুই লক্ষাধিক বাংলাদেশির বসবাস।
দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের সঠিক কোনও পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, এ সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজারের মতো হতে পারে। বৈধ কাগজপত্র ও কাজের অভাবে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া বৈধ কাগজ না থাকায় দেশেও ফিরতেও পারছে না তারা।
উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে সব অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দিয়েছিল ইতালি।








